Saturday, 7 November 2020

অমিত শাহের দুই দিনের সফরের পর আতঙ্কে তৃণমূল ও বিজেপি.

নিজস্ব প্রতিনিধি, দৃষ্টি বাংলা, কোলকাতা - স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দুইদিনের রাজ্য সফর হওয়ার পর শাসক দল তৃণমূল ও বিজেপির কিছু রাজ্য নেতৃত্ব আতঙ্কে আছেন. কিন্তু কেন এমন হতে চলেছে. রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে যে রাজ্য সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সুব্রত চট্টোপাধ্যায় কে বিনা নোটিশে যেভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে. এই বিষয়টা নিয়ে রাজ্যের অনেক তাবড় তাবড় নেতৃত্ব আতঙ্কে আছেন কখন তার পার্টির সাংগঠনিক পদটাই না চলে যায়. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক  রাজ্য নেতা বলেন, আমরা এখন আতঙ্কে আছি. সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ফোনটা খুলে প্রথমেই সোশ্যাল মিডিয়াতে চোখ রাখি আমার সাংগঠনিক পদটা ঠিক আছে তো. 
 এই কথা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় রাজ্য বিজেপির নেতৃত্ব অনেকেই আতঙ্কে আছেন তার সাংগঠনিক পদে তিনি আর কতক্ষণ থাকতে পারবেন এই ভয় নিয়ে. এই আতঙ্ক টা বেশি করে ছড়িয়ে পড়েছে যারা কাছের লোক বলে পরিচিত কেউ আছে তাদের ক্ষেত্রে. 
 গত সপ্তাহে রাজ্য ঘুরে গেছেন সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা. তিনি এসে রাজ্য রাজনীতির জলমেপে গেছেন. নাগরিকত্ব আইন নিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাবে বলে গেছেন পশ্চিমবাংলার বিধানসভার ভোটের আগেই নাগরিকত্ব আইন লাগু করা হবে. আবার হঠাৎ করে কিছু সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী উত্তরবঙ্গ সফর করে গেলেন. যদিও বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী বিহারে বিধানসভা ভোটের প্রচারে যাওয়ার সময় উত্তরবঙ্গ সফরে ঘুরে গেলেন. এখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা গৌতম বাবু. যেটা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গে. যদিও গৌতম বাবুর  পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে এটা শুধু মাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎকার. 
 আবার উল্লেখ করা যেতে পারে, এই সফরের মধ্যেই কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা তৃণমূলের মাথা যন্ত্রণার কারণ হতে পারে. রাজ্য প্রশাসনকে  না জানিয়ে খুবই গোপনীয় ভাবে সিআরপিএফ আধিকারিকের নেতৃত্বে এই অপারেশন চালানো হয়েছে. যেটা নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে বিবৃত জারি করা হয়েছে. আসলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এই দুদিনের সফর বিজেপি ও তৃণমূল নেতৃত্ব কে চাপে রেখেছে বিভিন্ন কারণে. রাজ্য মহিলা মোর্চার প্রাক্তন নেত্রী মৌমিতা বোস চক্রবর্তী আজ তৃণমূলে যোগ দিলেন. রাজ্য বিজেপিতে এই মুহূর্তে আমূল পরিবর্তন না হলে অনেক বিজেপির নেতৃত্ব তৃণমূলে যোগ দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে. কলকাতা শহর লাগোয়া বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলা থেকে বিজেপির পুরনো নেতৃত্ব আশায় বুক বেঁধে আছে ভালো কিছু হতে চলেছে. তার কারণ সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সুব্রত চট্টোপাধ্যায় এর অপসারণ. এখন দেখার বিষয় বিহার ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরে কেন্দ্রীয় বিজেপির নেতৃত্ব কি কি সিদ্ধান্ত নেয় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে. 

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: