সর্বশেষ

Tuesday, 27 January 2026

জঙ্গিপুর লোকসভার মধ্যে ৪ টি বিধানসভায় বিজেপি ভালো ফল করতে চলেছে। কারা আছেন প্রার্থীর দৌড়ে শেষ মুহূর্তে।

জঙ্গিপুর লোকসভার মধ্যে ৪ টি বিধানসভায় বিজেপি ভালো ফল করতে চলেছে। কারা আছেন প্রার্থীর দৌড়ে শেষ মুহূর্তে।

শুভ কল্যাণ বিশ্বাস, দৃষ্টি বাংলা, জঙ্গিপুর- ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় জঙ্গিপুর লোকসভায় তৃণমূলের খলিলুর রহমান ৫ লক্ষ ৪৪ হাজার ৪২৭ ভোট পেয়েছিলেন। আর কংগ্রেসের মুরতাজা হোসেন বকুল পেয়েছিলেন ৪ লক্ষ ২৭ হাজার ৭৯০ ভোট। 
 আর বিজেপির ধনঞ্জয় ঘোষ পেয়েছিলেন ৩ লক্ষ ৪০ হাজার ৮১৪ ভোট। 
 তৃণমূল কংগ্রেসের খলিলুর রহমান ১ লক্ষ ১৬ হাজার৬৩৭ ভোটে পরাজিত করেছিলেন কংগ্রেসের মুরতাজা হোসেন বকুলকে।

 কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের ফলাফল দেখে ২০২৬ সালের বিধানসভার ফলাফল আন্দাজ করা যাবে না কোনমতেই। জঙ্গিপুর লোকসভার মধ্যে যে সাতটি বিধানসভা আছে। তার মধ্যে গতবার  জঙ্গিপুর বিধানসভা বিজেপি এগিয়েছিল। এছাড়া খরগ্রাম, নবগ্রাম,  সুতি বিধানসভায় বিজেপি ভালো ফল করতে পেরেছিল। 
 এছাড়া সাগরদিঘী বিধানসভায় উপনির্বাচন অনেকটাই ব্যাগ ফুটে ঠেলে দিয়েছে তৃণমূলকে। কংগ্রেসের টিকিটে জয়লাভ  করে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দিয়ে  বায়রন বিশ্বাস এই বিধানসভায় মানুষের সঙ্গে বেইমানি করেছেন। 
 এছাড়া SIR বিষফোঁড়ার তৃণমূলকে বিদ্ধ করে চলেছে। SIR সঠিকভাবে কার্যকর হলে  সাতটি বিধানসভা থেকে গড়ে প্রায় এক লক্ষের উপরে ভোট বাতিল হতে পারে। 
 যে ভোটের বেশিরভাগটাই পেতো তৃণমূল। 
 এই সমস্ত অংক মাথায় রেখেই এবার তৃণমূলকে লড়াই তে নামতে হবে। তারপরে আবার নতুন করে হুমায়ুন কবিরের নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা হওয়ার কারণে তৃণমূলের চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে। এখন দেখার বিষয় এই লোকসভার মধ্যে যে সাতটি বিধানসভা আছে সেখানে কে কে  প্রার্থী হচ্ছে এটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। 

১) ২০২৬ সালে ৫৭সুতি বিধানসভার ফলাফল কি হতে যাচ্ছে। আমাদের জনমত সমীক্ষায় এখানে তৃণমূলের জয় সম্ভাবনা ৫৮%। ৯৮৮২ জন সাধারণ মানুষ, ১৩৫ টি টোটো ড্রাইভার, ৮২ টি অটো ড্রাইভার, ৭৫ টি দোকানদারের মতামতের ভিত্তিতে আমাদের এই সমীক্ষা রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। 
 তবে এখানে চতুর্মুখি লড়াই হলে বিজেপি অনেকটাই এগিয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে তৃণমূলের জয়ের মার্জিন খুব একটা বেশি থাকবে না। সে ক্ষেত্রে তখন তৃণমূল বিজেপির জয়ের মার্জিন দাঁড়াতে পারে ৫৫-৪৫%। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়  -
  এখন দেখে নেওয়া যাক এই বিধানসভায় কারা কারা প্রার্থী দৌড়ে আছেন। 
 শাসক দলের পক্ষ থেকে পুনরায় এমনি বিশ্বাসকে প্রার্থী করা হতে পারে। যেহেতু তিনি জয়ী প্রার্থী  তাই তাকে হয়তো দল এখান থেকে পরিবর্তন করতে চাইবেন না। তার কারণ জনমত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে প্রায় ৮৬ % সাধারণ কর্মী সমর্থকরা তাকেই পুনরায় এখান থেকে প্রার্থী হিসেবে চাইছেন।
  বিজেপির পক্ষ থেকে এখানে প্রার্থীর দৌড়ে সবার উপরে যে নামটি উঠে এসেছে, তিনি হলেন শঙ্কর পাল। প্রায় ৬৫ শতাংশ কর্মী সমর্থক সাধারণ মানুষ তাকে এখান থেকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন।
 গতবারের প্রার্থী কৌশিক দাসকে তারা এখান থেকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন না ২৩ শতাংশ মানুষ তাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। এছাড়া ১২% মানুষ চাইছেন এখান থেকে প্রার্থী হন মহাবীর ঘোষ। এখন দেখার বিষয় দল কাকে প্রার্থী করেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখানে এখনো প্রার্থী ঠিক করা হয়নি। তবে হুমায়ুন বাবু এবং কংগ্রেস এবং আইএসএফ সব একসঙ্গে জোট হলে এখানে প্রার্থী হিসাবে একজন যুব নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। 

২) ২০২৩ সালে সাগরদিঘী বিধানসভা উপনির্বাচন একটি ঐতিহাসিক ভুল বলে মনে করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেস সিপিএম বিজেপি অলিখিত জোট করে সেদিন তৃণমূলকে হারিয়েছিল। তা কারণ সুব্রত সাহা তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন। তবুও শাসক দল সেদিন এই আসনটি রক্ষা করতে পারেনি। উপনির্বাচনে কংগ্রেসের বায়রণ বিশ্বাস  ৪৭.৩৫% ভোট পেয়েছিলেন। তিনি মোট ৮৭৬৬৭ টি ভোট পান। তৃণমূলের দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছিলেন ৩৪.৯৪ শতাংশ ভোট। তিনি মোট ৬৪৬৮১ ভোট পেয়েছিলেন। 
 বিজেপির দিলীপ সাহা পেয়েছিলেন ১৩.৯৪ শতাংশ ভোট। তার মোট ভোটের পরিমাণ ছিল  হাজার২৫৮১৫ ভোট। 
 কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফলাফল বিশ্বনবী করলে দেখা যায় -
 তৃণমূলের সুব্রত সাহা পেয়েছিলেন ৯৫ হাজার ১৯৯ ভোট। বিজেপির মাফুজা খাতুন পেয়েছিলেন ৪৪৯৮৩ ভোট।  আর কংগ্রেসের এস কে হাসানুজ্জামান পেয়েছিলেন ৩৬৩৪৪ ভোট।
 আমাদের জনমত সমীক্ষায় এক আশ্চর্যজনক তথ্য উঠে এসেছে, এখানে এবার বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই তৈরি হয়েছে। এই মুহূর্তে ভোট হলে তৃণমূল এখানে ৫৫ শতাংশ এগিয়ে থাকবে। বিজেপি এগিয়ে আছে ৪৫%। এখানে শাসক দল তৃণমূলের প্রচন্ড গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে এখানে বিজেপি এখানে জয়লাভ করতে পারে যদি  কিছু কিছু ফ্যাক্টর কাজ করে। বায়রণ বিশ্বাস কংগ্রেস থেকে তৃণমূলের যোগদান করার কারণে এইখানকার তৃণমূল কর্মীরা অনেকটাই বাইরন বিশ্বাসকে মন থেকে মেনে নিতে পারেননি। 
 শাসক দল তৃণমূল যদি বায়রন বিশ্বাসকে এখানে প্রার্থী করে তাহলে তৃণমূলের ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে সেই ভোট কিছুটা হলেও বিজেপির দখলে আসতে পারে। 
 তবে এই মুহূর্তে তৃণমূল প্রার্থী  হওয়ার দৌড়ে  বায়রন বিশ্বাসের নামই সবার উপরে আছে।প্রায় ৫৭ শতাংশ মানুষ তাকে এখান থেকে প্রার্থী হিসেবে চাইছেন। 
 বিজেপি প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে প্রথমেই যে নামটি উঠে এসেছে তিনি হলেন শিক্ষক গৌতম কুমার দাস। প্রায় ৭১ শতাংশ সাধারণ কর্মী সমর্থকরা চাইছেন তিনি এখান থেকে এবার প্রার্থী হন।
 জয়ন্ত কুমার মন্ডলকে ২১% মানুষ  প্রার্থী হিসেবে চাইছেন। ৮ শতাংশ মানুষ চাইছেন এখান থেকে দেবসরণ ঘোষ প্রার্থী হন। এখন দেখার বিষয় দল এখান থেকে কাকে প্রার্থী করে।

৩) নবগ্রাম বিধানসভায় ২০২১ সালের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তৃণমূল এখানে ৪৮.৮% ভোট পেয়েছিল। তৃণমূলের কানাই চন্দ্র মন্ডল ১ লক্ষ ৪৫৫ ভোট তিনি পেয়েছিলেন। 
 বিজেপির মোহন হালদার পেয়েছিলেন  ৬৪ হাজার ৯২২ ভোট। যেটা মোট পোলিং ভোটের ৩১.৫%। আর সিপিএমের কৃপালিনী ঘোষ পেয়েছিলেন ৩৯ হাজার ১৩৯ ভোট। তিনি মোট ১৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। 

 আমাদের জনমত সমীক্ষায় যে তথ্য উঠে এসেছে SIR এর কারনে এখানে কাছাকাছি ভোট বাতিল হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তৃণমূলের জয়ের মার্জিনটা কমে আসতে পারে।  তৃণমূল এখানে ৫২%  এগিয়ে আছে জয়ের দিকে। তবে যদি এখানে ত্রিমুখী লড়াই দেখা যায় বিজেপি এখানে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। 
 শাসক দল তৃণমূল এখানে কানাই চন্দ্র মন্ডলকে প্রার্থী করতে পারে তবে, বয়সজনিত কারণে তাকে এবার দল প্রার্থী নাও করতে পারে সেক্ষেত্রে অভিষেক ঘনিষ্ঠ একজনের নাম শোনা যাচ্ছে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে তিনি আছেন। 
 জনমত সমীক্ষায় বিজেপির প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ  ও কর্মী সমর্থকরা  এই বিধানসভায় প্রশান্ত প্রধানকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন।  ৩৫ শতাংশ মানুষ এখানে মানিক সরকারকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছে। হরিশ সরকারকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন ২০ শতাংশ মানুষ।

৪) ২০২১ সালে খরগ্রাম বিধানসভার রেজাল্ট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তৃণমূলের আশিস মার্জিত তিনি ৯৩ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়েছিলেন। যেটা মোট পোলিং ভোটের ৫০.৬০ শতাংশ । বিজেপির আদিত্য মৌলিক পেয়েছিলেন ৬০ হাজার ৬৮২ ভোট। যেটা মোট পোলিং ভোটের ৩৩ শতাংশ। সিপিএমের বিপদ তরণ বাগদী পেয়েছিলেন, ২৭ হাজার ৪২৩ ভোট।

 আমাদের জনমত সমীক্ষায় প্রায় সাড়ে এগারো হাজার মানুষের মতামত , প্রায় দুশোর উপরে অটো ড্রাইভার, ২৪০টির উপরে টোটো ড্রাইভার  ও একশোর কাছাকাছি দোকানদারদের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। এই মুহূর্তে খরগ্রাম বিধানসভায় ভোট হলে তৃণমূল এগিয়ে থাকবে ৫৫%। শাসক দল তৃণমূল এখানে হয়তো পুনরায় আশীষ মার্জিতকে প্রার্থী করতে পারে। প্রায় ৬৭ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা আশীষ বাবুকে এখানে পুনরায় প্রার্থী হিসেবে চাইছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে।
 বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে প্রায় ৫৩ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা দোলচাঁদ মালকে এখান থেকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছে। প্রায় ৩৬ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা আদিত্য মল্লিক কে পুনরায় প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। ১১ শতাংশ মানুষ চাইছে এখান থেকে মিঠুন ঘোষকে প্রার্থী করা হোক.।
 এখন দেখার বিষয় বিজেপি দল কাকে প্রার্থী করে। তবে আদিত্য মল্লিককে এখানকার মানুষ পুনরায় প্রার্থী হিসেবে মোটেই দেখতে চাইছেন না। 
 বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে  

৫) ২০২১ সালের লালগোলা বিধানসভার ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের আলী মোহাম্মদ ১ লক্ষ ৭হাজার ৮৬০ ভোট পেয়েছিলেন। কংগ্রেসের আবু হেনা পেয়েছিলেন  ৪৭ হাজার ১৫৩ ভোট। বিজেপির কল্পনা ঘোষ পেয়েছিলেন  ২৯ হাজার ৪৬৪ ভোট। 
আমাদের জনমত সমীক্ষায় যে তথ্য উঠেছে সেটা হল, এই মুহূর্তে হলে এবং ত্রিমুখী লড়াই হয় তাহলে তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৫ শতাংশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত অনুযায়ী SIR এর প্রভাবে তৃণমূলের জয়ের মার্জিন এর অনেকটাই প্রভাব পড়তে পারে। 
 কিন্তু বিভিন্ন সূত্র থেকে যে তথ্য উঠে আসছে তাতে তৃণমূলের প্রার্থী বদল সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তৃণমূল হয়তো আলি মোহাম্মদকে পুনরায় এখান থেকে প্রার্থী করতে পারেন। তার কারণ ৭২ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা তাকেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন এখান থেকে।
 বিজেপি প্রার্থী দৌড়ে প্রথমে যে নামটি উঠে আসছেন তিনি হলেন মৌসুমী হালদার। তিনি পঞ্চায়েত সদস্য ও মন্ডল সভাপতি । প্রায় ৬০ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা তাকে এখান থেকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন।  তারপরে নাম উঠে আসছে শ্রীবাস সরকারের।প্রায় ২১ শতাংশ মানুষ এবং কর্মীরা তাকে প্রার্থী হিসেবে চাইছেন।
 তারপরেই উঠে আসছে কল্পনা ঘোষের নাম। প্রায় ১৪ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা তাকে এখান থেকে পুনরায় প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। অমর কুমার দাস কে ৫% মানুষ এখানে প্রার্থী হিসেবে চাইছে। 
তবে বিজেপির দল এখান থেকে কাকে প্রার্থী করে সেটাই দেখার বিষয় তবে সঠিক প্রার্থী নির্বাচন না করতে পারলে বিজেপি এখানে ভালো ফল করতে পারবে না। 
৬) জঙ্গিপুর বিধানসভা  ২০২১ সালের ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের জাকির হোসেন ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৪৪ ভোট পেয়েছিলেন। বিজেপির সুজিত দাস পেয়েছিলেন ৪৩ হাজার ৯৬৪ ভোট। 
 কিন্তু ২৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপি এখান থেকে লিভ দিয়েছিল। 
 তাই ২০২৬ সালের এখানে লড়াই জমে যাবে তৃণমূল বিজেপির। আমাদের জনমত সমীক্ষায় এই মুহূর্তে ভোট হলে বিজেপি এখানে ৫১-৪৯% এগিয়ে থাকবে। তবে বিজেপিকে সঠিক এবং সর্বসম্মতভাবে প্রার্থী নির্বাচন করতে হবে।  সমাজে যার গ্রহণযোগ্যতা আছে, সংগঠনিক দক্ষতা আছে এমন কাউকে প্রার্থী  করলে বিজেপি এখানে জয়লাভ করার জায়গায় আছে। 
 তৃণমূলের তরফ থেকে পুনরায় এখানে জাকির হোসেনকে প্রার্থী করার। প্রায় ৬৮ শতাংশ কর্মী ও সমর্থকরা  তাকে প্রার্থী  হিসেবে চাইছেন। 
 বিজেপি তরফ থেকে দু তিনটে নাম ভেসে উঠেছে প্রার্থীর দৌড়ে। প্রায় ৩৯ শতাংশ মানুষ এখানে সুবল চন্দ্র ঘোষকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। তিনি জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি। যদিও সূত্রের খবর কোনো সভাপতিকেই দল এবার টিকিট হয়তো দেবে না। তারপরেই নাম উঠে আসছে শিক্ষক শংকর পালের। প্রায় ৩৮ শতাংশ মানুষ তাকে এখানে প্রার্থী হিসেবে চাইছেন। ২৩ শতাংশ মানুষ মোহন হালদারকে এখানে প্রার্থী হিসেবে চাইছেন।  এখন দেখার বিষয় দেওয়াল এখানে কাকে প্রার্থী করে। তবে ভালো প্র্যাকটি দিতে পারলে বিজেপি ২০২৬ সালের এই বিধানসভায় জয়লাভ করতে পারে। 

৭) রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভায় বিজেপির সংগঠন সেভাবে শক্তিশালী না হলেও এখানে কিন্তু বিজেপি তৃণমূলকে টক্কর দেওয়ার জায়গায় আছে। 
 ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তৃণমূলের আখরুজ্জামান ১ লক্ষ ২৬ হাজার ৮৩৪ ভোট পেয়েছিল। আর বিজেপি পেয়েছিল ২৮৫২১ ভোট। ২০২৬ সালের তৃণমূল এখানে হয়তো প্রার্থী বদল করবেনা। 
 কিন্তু বিজেপি এখানে কাচ্চিবদল করতে পারে। প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা সুরজিৎ পোদ্দারকে এখানে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছে। ৩২ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা এখানে রাহুল ঘোষ কে প্রার্থী হিসেবে চাইছে। বাদবাকি ২৮ শতাংশ মানুষ অন্যান্য নেতৃত্বকে প্রার্থী হিসেবে চাইছে। 
 এখন দেখার বিষয় দল এখানে কাকে প্রার্থী করে তবে ভালো প্রার্থী দিলে বিজেপি এখানে অনেক ভোট পেতে পারে। 
 এক কথায় বলতে গেলে জঙ্গিপুর লোকসভার অধীনস্থ সাতটা বিধানসভা বিজেপিকে ভালো ফল করতে হলে সর্বসম্মতভাবে যোগ্য মানুষকে নির্ধারণ করতে হবে। 
 তবে জঙ্গিপুর লোকসভায় SIR ফলে প্রচুর ভোট   বাদ যেতে পারে। এই ভোটের বেশিরভাগ ছিল তৃণমূলের। 



Friday, 23 January 2026

সরস্বতী পূজার প্যান্ডেল উদ্বোধনে রানীমা অমৃত রায় নিজ বিধানসভা ক্ষেত্রে।

সরস্বতী পূজার প্যান্ডেল উদ্বোধনে রানীমা অমৃত রায় নিজ বিধানসভা ক্ষেত্রে।

শুভ কল্যাণ বিশ্বাস, দৃষ্টি বাংলা, কৃষ্ণনগর - ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে একটা প্রিয় দিন সরস্বতী পুজোর দিনটি। এটা শুধু বাগদেবী আরাধনা সেটা শুধু নয় তার সাথে একটা বাড়তি আবেগ কাজ করে আজকের দিনটিতে প্রত্যেকটি ছেলেমেয়েদের মধ্যে। 
 কৃষ্ণনগর বিধানসভার শক্তিনগর গ্রামে সরস্বতী পূজার প্যান্ডেল উদ্বোধন করতে দেখা গেল কৃষ্ণনগর লোকসভার প্রার্থী রাণীমা অমৃত রায় কে। তিনি কৃষ্ণনগরের রাজবাড়ী রানী মা। কিন্তু তার মধ্যে বিন্দুমাত্র অহংকার বোধ কাজ করে না। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন সুন্দর ভাবে মিশে যেতে পারেন। সেটা ওনার পারিবারিক শিক্ষা এবং সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। 
 প্যান্ডেলে অবস্থানরত সাধারন মানুষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য থেকেই  জানা যায়, তিনি প্যান্ডেল উদ্বোধন করতে এসে খুবই আনন্দ উপভোগ করেছেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে  গেছেন। 
আজকাল বিভিন্ন ধর্মীয় এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে তাকে মাঝে মাঝেই দেখা যায়। এছাড়া শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে ও দেখা গেছে রানীমাকে।
বাংলাদেশে বেছে বেছে হিন্দু হত্যার ঘটনা নিয়েও তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ধিক্কার মিছিলের শামিল হয়েছেন কৃষ্ণনগরে। 

আজ রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে সরস্বতী পূজা ও নেতাজি জন্মজয়ন্তী পালন একসাথে হলো।

আজ রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে সরস্বতী পূজা ও নেতাজি জন্মজয়ন্তী পালন একসাথে হলো।

শুভকল্যাণ বিশ্বাস, নদীয়া করিমপুর - 
রাজ্যের বেশিরভাগ স্কুলেই আজকে সরস্বতী পূজো এবং নেতাজি জন্ম জয়ন্তী একসাথে পালিত হয়েছে। 
 এরকম একই সঙ্গে একই দিনে স্কুলের এই প্রোগ্রাম দুটো একসঙ্গে হচ্ছে,বহু বছর পরে ঘটনা ঘটেছে।নদীয়ার করিমপুর সুধা স্মৃতি শিশুনিকেতনে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী পালন করা হয় এবং সরস্বতী পূজাও করা হয়। 
 স্কুলের তরফ থেকে ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকবৃন্দের প্রসাদ বিতরণ করা হয়। 

Wednesday, 21 January 2026

K. K. S. K  স্মৃতি বিদ্যাপীঠ স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।

K. K. S. K স্মৃতি বিদ্যাপীঠ স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।

শুভ কল্যাণ বিশ্বাস, দৃষ্টি বাংলা, ধুলিয়ান  -K.K.S.K স্মৃতি বিদ্যাপীঠ ( HS ) স্কুলে  প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক ক্রিয়া প্রতিযোগিতা। এই স্কুলের মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ২২০০ এর কাছাকাছি। শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মী মিলে মোট ৩৬ জন স্টাফ আছেন স্কুলে।  প্রতিবছরই একটি উৎসবের আকারে অনুষ্ঠিত হয় এই বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষকরা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। ১০০ মিটার ২০০ মিটার ৫০০ মিটার, দৌড় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি লংজাম, হাই জাম, আলু দৌড়, মিউজিকাল চেয়ার খেলা, বিভিন্ন খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 প্রত্যেকটি ইভেন্টে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যে প্রথম, দ্বিতীয়,তৃতীয় স্থান অধিকারী যারা হয়েছেন তাদের প্রত্যেককে পুরস্কৃত করা হয়েছে স্কুলের তরফ থেকে। 
 স্কুলের টিচার ইনচার্জ হলেন  মোহাম্মদ আব্দুল কবির। 
  স্কুলের সহকারী শিক্ষক  শংকর পাল বলেন, আমাদের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি  আমাদের শিক্ষকরাও স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নিয়ে খুবই উৎসাহিত থাকেন। সকল শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমাদের এই প্রতিযোগিতা সফলভাবে শেষ হয়েছে।
 জেলা স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়  আমাদের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা পুরস্কার নিয়ে এসে আমাদের স্কুলকে গর্বিত করবে এটা আমরা আশা রাখি। 
 আমাদের সকল শিক্ষকের তরফ থেকে প্রধান শিক্ষককে আমরা ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি সফলভাবে এই ক্রিড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করার জন্য।

Monday, 19 January 2026

নবগ্রাম বিধানসভায় বিজেপি ভালো করবে যদি সঠিক ক্যান্ডিডেট দিতে পারে।

নবগ্রাম বিধানসভায় বিজেপি ভালো করবে যদি সঠিক ক্যান্ডিডেট দিতে পারে।

শুভকল্যাণ বিশ্বাস, দৃষ্টি বাংলা, নবগ্রাম - 2026এ বিধানসভা নির্বাচন কঠিন হতে চলেছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তার থেকেও কঠিন হতে যাচ্ছে নবগ্রাম বিধানসভায় বিজেপির লড়াই। 2021এর নবগ্রাম বিধান সভার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তৃণমূলের কানাই চন্দ্র মন্ডল পেয়েছিলেন 1লক্ষ 455 ভোট। আর বিজেপির মোহন হালদার পেয়েছিলেন 64 হাজার 922 ভোট। সিপিএম এর কৃপালিনী ঘোষ পেয়েছিলেন 39 হাজার 129 ভোট। 
বর্তমানে বিজেপির মোহন হালদার তৃণমূল করছেন। ভোটের কিছু দিন পরেই তিনি তৃণমূলে চলে যান। বিজেপি দল ভূল ক্যান্ডিডেট নির্বাচন করেছিলেন তখন যার ফল এখনো ভোগ করছে দল। সেই জন্যে সঠিক ক্যান্ডিডেট নির্বাচন করতে হবে এবার দলকে। এই মুহুর্তে ভোট হলে,আমাদের জনমত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে তৃণমূল এখানে জয়লাভ করতে পারে। কিন্ত তার সাথে কিছু শর্ত তৃণমূলের পিছনে। তবে বিজেপি যদি একটি সঠিক ক্যান্ডিডেট দিতে পারে লড়াই জমে যেতে পারে। বিধায়ক কানাই মন্ডল এর জনপ্রিয়তা বর্তমানে তলানিতে থেকেছে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে তৃণমূল যদি কানাই বাবুকে ক্যান্ডিডেট করে তাহলে ভূল করবে। তবে বিজেপি কাকে ক্যান্ডিডেট করবে সেটা জানা না গেলেও দুটো তিনটে নাম কর্মীদের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে। জনমত সমীক্ষায় 56% কর্মী ও সমর্থকদের পছন্দের ক্যান্ডিডেট হিসাবে প্রশান্ত প্রধানের নাম প্রথমেই উঠে আসছে। 24% কর্মীদের পছন্দের ক্যান্ডিডেট হিসাবে স্বয়ংসেবক মানিক সরকারের নাম উঠে আসছে। 20% কর্মীদের পছন্দ হরিশ সরকারের নাম। 
 তবে দল কাকে প্রার্থী করে সেটাই দেখার। কিন্তু বিজেপিকে জিততে গেলে ৫০% বুথ এখনো সেভাবে শক্তিশালী নয়, এই বুথ গুলোকে পুনরায়  শক্তিশালী করতে হবে। 
এছাড়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত অনুযায়ী, এই বিধানসভার সংগঠন বিজেপির দুর্বল হয়েছে ভুল প্রার্থী নির্বাচনের কারণে। মোহন হালদার বিজেপি থেকে তৃণমূলে চলে যাওয়ার জন্যেই এখানে সংগঠন সেভাবে শক্তিশালী হয়নি।
 কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে  প্রশান্ত প্রধান যেভাবে প্রত্যেকটা অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে বিজেপির জনসংযোগ করছেন। এটা প্রশংসার দাবি রাখে। একজন শিক্ষক যদি এই বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে পান তাহলে নবগ্রাম বিধানসভায় মানুষের অনেক উপকার হতে পারে বলে অনুমান।