গোপীবল্লভপুর বিধানসভা থেকে তৃণমূল পেয়েছিল 82 হাজার 205 ভোট এবং বিজেপি পেয়েছিল 89 হাজার 34 ভোট. আর সিপিএম পেয়েছিল 6128 ভোট.
কিন্তু লোকসভা ভোটের পর বিজেপির সংগঠন এখানে কিছুটা এলোমেলো আকার ধারণ করেছে. পুরনো কর্মীদের মূল্য না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে. কাছের লোকদের পদ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে একাধিক নেতার বিরুদ্ধে.মূলত জেলা সভাপতি সুখময় সৎপতি এবং দুজন সাধারণ সম্পাদক অবনী ঘোষ ও সনজিৎ মাহাতো এই তিনজনের বিরুদ্ধে ঘোরতর অভিযোগ আছে জেলা এবং মন্ডলের বিভিন্ন কার্যকর্তার. মূলত যে সমস্ত কার্যকর্তার দৌলতে বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচন ও লোকসভা নির্বাচন উতরে গেছে বিজেপি তাদেরকে মূল্য না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই তিনজনের বিরুদ্ধে. তাছাড়া এখানে গত লোকসভা ভোটের পর থেকে বিজেপির সংগঠন অন্যান্য সব জেলায় শক্তিশালী হলেও এখানে তার উল্টো চিত্র ধরা পড়েছে আমাদের সমীক্ষায়.
গত লোকসভা ভোটে তৃণমূল যে ভুল সাংগঠনিকভাবে করেছে সেটা তারা শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করছে.
এই বিধানসভার ভৌগোলিক চরিত্র বড়ই কঠিন.এখানকার 100 শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করেন. এখানকার অর্থনৈতিক অবস্থা অনেকটা বালি খাদান এর উপর নির্ভর করে.
2 লক্ষ 81 হাজার 645 মানুষ এই বিধানসভায় বসবাস করে. যার মধ্যে ST সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন 24.60 শতাংশ এবং SC সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন 19.90 শতাংশ.
গত লোকসভা( 2019)ভোটে ভোটার লিস্ট থেকে জানা যায় এখানে 2 লক্ষ 22হাজার 139 জন ভোটার ছিল. এই বিধানসভায় ভোট কেন্দ্র আছে 283 টি.এই বিধানসভায় 12 থেকে 13 টি অঞ্চলে এখনো বিজেপি সংগঠন শক্তিশালী আছে কিন্তু বাকি অঞ্চলগুলিতে বিজেপি সংগঠন ভেঙ্গে পড়েছে. যার কারণে আগামী বিধানসভায় এর খেসারত দিতে হতে পারে বিজেপি.
আমাদের জনমত সমীক্ষায় তৃণমূলের প্রার্থী দৌড়ে রয়েছেন তৃণমূলের বিজয়ী প্রার্থীর নাম. চুরমনি মাহাতোকে হয়তো তৃণমূল দল আবারও প্রার্থী করতে পারে. তবে নতুন কাউকে নিয়ে আসতে পারে এবার প্রার্থীর জন্য. সিপিএম কংগ্রেস জোট এই বিধানসভায় কাকে প্রার্থী করবে সেটা এখনও পরিষ্কার নয়. তবে এখানে সিপিএমের সংগঠন কংগ্রেসের তুলনায় একটু ভালো. সেক্ষেত্রে এখানে জোটের প্রার্থী হলে সিপিএমের প্রার্থী হবে সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে.
বিজেপি এখানে কাকে প্রার্থী করবে সেটাই দেখার. আমাদের জনমত সমীক্ষায় প্রার্থীর দৌড়ে রয়েছেন তারা হলেন-
1) জনমত সমীক্ষায় সবার প্রথমে যে নামটি উঠে এসেছে তিনি হলেন মমতা ভকত. তিনি খুব বেশিদিন পার্টিতে যোগদান না করলেও জনমত সমীক্ষায় প্রার্থীর দৌড়ে তিনি অনেক হেভিওয়েট নেতাদের পিছনে ফেলে দিয়েছেন. যদিও তিনি 2017 সালে দলে এসেছেন. তিনি সড়দিয়া অঞ্চল থেকে পঞ্চায়েত সমিতির মেম্বার হয়েছেন প্রথমবার নির্বাচনে দাঁড়িয়ে. করোনা ও আমফান পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে দুঃস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি. সেই কারণেই তিনি জনমত সমীক্ষায় অনেকটাই এগিয়ে আছেন প্রার্থীর দৌড়ে.তিনি বর্তমানে ঝাড়গ্রাম জেলা মহিলা মোর্চার অবজারভার.
2) এর পরেই প্রার্থীর দৌড়ে যার নাম উঠেছে তিনি হলেন সনজিৎ মাহাতো. তিনি বর্তমানে ঝাড়গ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক. সাংগঠনিকভাবে গোপীবল্লভপুর বিধানসভা হাতের তালুর মতন চেনা. তিনি জেলার সভাপতির কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত.
3) এরপরে প্রার্থীর দৌড়ে রয়েছেন অবনী ঘোষ. তিনিও ঝাড়গ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক. অবনী বাবুর নাম ঝাড়গ্রাম বিধানসভা থেকে উঠছে প্রার্থীর জন্য.
4) তারপর প্রার্থীর দৌড়ে নাম উঠে আসছে মহিলা মোর্চা সভানেত্রী রিমঝিম সিংহ এর. প্রার্থীর দৌড়ে রয়েছেন তিনিও.
5) সুশীল কুমার ঘোষ এর নামো শোনা যাচ্ছে এই বিধানসভার কিছু কিছু মানুষের মুখে. 2016 সালে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন এই বিধানসভা থেকে. ভোট পেয়েছিলেন 21 হাজার 338.তবে তিনি সেভাবে মানুষের মধ্যে নেই এই অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে.
6) কিছু কিছু মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে ধর্মেন্দ্র মাহাতোর নাম.
তবে বিজেপি দল কাকে প্রার্থী করে সেটাই দেখার. মানুষ এখনও বিজেপিকে চাইছে এই বিধানসভায়. সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করতে পারলে বিজেপি হয়তো জিতে যাবে. কিন্তু ভুল প্রার্থী নির্বাচন করলে বিজেপির এখানে সম্ভাবনা থাকবে কম.
0 coment rios: