Tuesday, 27 July 2021

তফশিলি সম্প্রদায়ের নেতৃত্বকে বিজেপির মাদার সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ পদে না বসালে বিজেপি এরাজ্যে ভালো ফল করতে পারবে কি?

শুভ কল্যাণ বিশ্বাস,কোলকাতা,  দৃষ্টি বাংলা- 2019 লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি যে সংগঠনের জোরে 18 টি লোকসভা আসন দখল করেছিল  তার প্রধান কারিগর ছিলেন, আরএসএসের স্বয়ংসেবকরা, বিজেপির পুরনো নেতৃত্ব, ও তপশিলি সম্প্রদায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগদান. ঝাড়গ্রাম,বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, নদিয়া,উত্তর 24 পরগনা জেলায় বিজেপির ভালো ফল হয়েছিল 2019 এর লোকসভা নির্বাচনের সময় তফশিলি অধ্যুষিত এই জেলাগুলিতে. তার কারণ ছিল পুরনো কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান ও তপশিলি সম্প্রদায় মানুষের একচেটিয়া ভোট পড়েছিল বিজেপির ঝুলিতে. এইবার এই সমস্ত জেলাগুলিতে তফশিলি ভোট ভাগ হয়ে গেছে.
 বিজেপির পুরনো কর্মীরা এবার ভোটে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেনি যার বেশিরভাগই তফশিলি সম্প্রদায়ের মানুষ.  এদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিজেপি সেভাবে তফসিলি সম্প্রদায়ের মানুষদের সাংগঠনিকভাবে গুরুত্ব দেন না.  যদিও রাজ্যে তফশিলি মোর্চার সাংগঠনিক সংগঠন আছে. তবুও এই সংগঠন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না এই রাজ্যে. মাদার সংগঠনের আয়ত্তাধীন থেকে কাজ করতে সমস্ত মোর্চার  সংগঠনগুলিকে. যুব  মোর্চা এবং মহিলা মোর্চার কিছুটা সাংগঠনিক গুরুত্ব থাকলেও বাকি মোর্চা গুলিকে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় না. এই কথাগুলি জানা গেছে বিজেপির একজন পুরনো জেলা নেতৃত্ব থেকে. 
 পরিসংখ্যান বলছে, এরাজ্যে রাজনৈতিকভাবে যতগুলো খুন হয়েছে ভোট পরবর্তী এবং পূর্ববর্তী সময়ে তার প্রায় 95% তফশিলি সম্প্রদায়ের মানুষ.

 একজন তপশিলি নেতা বলেন,এই রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার তফশিলি সম্প্রদায়. তার পরেই সংখ্যালঘু ভোটার. তাই সংখ্যালঘুরা যদি তৃণমূলের কাছ থেকে তাদের  দাবি আদায় করে নিতে পারেন তাহলে আমরাও বিজেপির কাছ থেকে আমাদের দাবি দাবি আদায় করে নিতে পারব. যদি আমাদের সাংগঠনিকভাবে গুরুত্ব না দেয়া হয় তাহলে আমরাও ভাববো বিজেপির ছত্রছায়ায় থাকবো কিনা.
 একজন তপশিলি মানুষকে রাষ্ট্রপতি করে দিলেই তপশিলি সম্প্রদায় মানুষের উন্নয়ন হবে না. স্বামী বিবেকানন্দ বলে গেছেন, শুদ্রদের জাগরণ না হলে হিন্দু জাতি জাগ্রত হবে না. শুদ্রদের রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে দিতে হবে. কিন্তু এই রাজ্যে তপশিলি নেতাদের সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় না. মন্ডল থেকে রাজ্যস্তরে বিভিন্ন কমিটিতে তফশিলি সম্প্রদায়ের মানুষদের সেভাবে কমিটিতে রাখা হয় না. পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পুরাতন বিজেপি কর্মীরা গুপ্ত বৈঠক করছেন আগামী দিনে বিজেপিতে ভূমিকা কি হবে এই বিষয় নিয়ে. যেটা বিজেপির  কাছে  খুব সুখের হবে না. রাজ্যে তপশিলি নেতাদের একটাই বক্তব্য,সাংগঠনিকভাবে তাদের গুরুত্ব না দিলে বিজেপি এরাজ্যে আগামী নির্বাচনগুলিতে ভালো ফল করতে পারবেনা. তিনি আরো বলেন, মিটিং-মিছিলের লোক ভরাবো আমরা, রাজনৈতিকভাবে খুন হবো আমরা, আর সাংগঠনিকভাবে আমরা গুরুত্বহীন এটা এরাজ্যে হতে দিচ্ছি না আমরা. কিছু ধান্দা বাজ লোক কদিন আগে তৃণমূল থেকে এসেছে তাদের গুরুত্ব যদি দেওয়া হয় তাহলে বিজেপি কোনদিনও রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে না.
 2014 সালের আগে পর্যন্ত এই রাজ্যে বিজেপির ভোট সংখ্যা ছিল 7%. তখন সারা পশ্চিমবঙ্গে কিছু পঞ্চায়েত সদস্য থাকলেও কোন পঞ্চায়েত দখলে ছিল না বিজেপির.
আর সেভাবে বিজেপির সংগঠন ছিল না পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে. তারপরও সারা বাংলার মানুষ কিন্তু পৃথিবীতে আঠারোটা লোকসভা আসন দিয়েছিল. এই আঠারোটি লোকসভা আসনের মধ্যে প্রায় 120টি আসনে বিজেপি বিধানসভা ভিত্তিক এগিয়ে ছিল.
 তারপর এবার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি 77 টি আসন পাওয়ার কারণে প্রশ্ন উঠেছে বিজেপির ফল নিয়ে. রাজ্য বিজেপির বক্তব্য 2016 বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে বিজেপি মাত্র তিনটি আসন ছিল সেখানে  2021 বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি 77 টি আসন পেয়েছে. তাহলে বিজেপির ফল ভালো হয়েছে. কিন্তু বিজেপির এই ফলের কারণে নিচু তলার কর্মীদের মনের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে  বিভিন্ন কারণে.

 যেখানে বিজেপি'র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আশা করেছিল এবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি 200 উপরে আসনে জয় লাভ করবে  সেখানে এই ফল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে হতাশায় ফেলেছে.জল মেশানো বুথ কমিটি দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ভুল বুঝিয়েছে রাজ্যের জেলা নেতৃত্ব. তাই এই ফল হয়েছে.

 কিন্তু দলীয় সমীক্ষা  ও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, বিজেপির আই এর প্রধান কারণগুলি হলো ,1) অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস,2) তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের প্রার্থী করা.3) পুরনো কর্মীদের সেভাবে গুরুত্ব না দেওয়া.4) বুথ ভিত্তিক  প্রচারে তৃণমূলের থেকে পিছিয়ে থাকা.
5) আউটডোর প্রোগ্রামের জোর না দিয়ে ইন্ডোর প্রোগ্রামে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে.
6) তফশিলি ভিত্তিক জেলাগুলিতে মাদার সংগঠনে তপশিলি নেতৃত্বেকে গুরুত্ব না দেওয়া.
7) রাজ্য বিজেপি পুরোপুরি ভাবে দুটো লবিতে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল  মন্ডল স্তর থেকে পুরো রাজ্য পর্যন্ত. একটা লবি মুকুল রায়  এর. আর একটা লবি ছিল দিলীপ ঘোষের.
8) প্রার্থী নির্বাচনে আরএসএসের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া.
9) ভুল তথ্য  কেন্দ্রকে পরিবেশন করা হয়েছে রাজ্যের বুথ স্তরের সংগঠন নিয়ে.
10) বিজেপির নেতাদের কিছু মন্তব্য এ রাজ্যের মানুষ ভালোভাবে নেননি.

 এই সমস্ত কারণে বিজেপি এই রাজ্যে আশানুরূপ ফল করতে পারেনি.

 এখন আসা যাক আসল প্রশ্নে - আগামী পঞ্চায়েত ও পৌর নির্বাচনে বিজেপিকে ভালো ফল করতে হলে সংগঠন কে গুছিয়ে নিতে হবে. আর তারপরেই ও রয়েছে লোকসভা নির্বাচন. 2019 এ লোকসভায় বিজেপিকে রাজ্যে 18 টি আসন পেয়েছিল মোদি হওয়ায়. এবার কিন্তু এই রাজ্যের লোকসভা আসনে ভালো ফল করতে হলে সংগঠনকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে.

 বাংলায় চলছে ভোট সর্বস্ব রাজনীতি. তৃণমূলের শক্তশালী  ভোটব্যাঙ্ক সংখ্যালঘুরা.
 এতদিন পর্যন্ত  বিজেপির শক্তিশালী ভোটব্যাঙ্ক ছিল তপশিলি সম্প্রদায়ের ভোটার. সেই ভোটব্যাংকে এবার ধ্বস নেমেছে বিধানসভা ভোটের সময়. যার কারণে যে সমস্ত বিধানসভা আসনের গত লোকসভা ভোটে বিজেপি এগিয়ে ছিল এবার সেটা লক্ষ্য করা যায়নি  বিধানসভা ভোটে.



শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: