গতকাল বাগদা বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস তৃণমূলে যোগদান করার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়াতে তাকে নিয়ে যেভাবে টোল্ড হচ্ছে তাদের দুই পার্টির তরফ থেকেই ভালো মন্দ টিপ্পনী শোনা যাচ্ছে, বা দেখা যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে. বিশ্বজিৎ দাস যে কারণ দেখিয়ে সেদিন তৃণমূল দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন, সেটা হলো বনগাঁ শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ও বনগাঁঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান শংকর বাবুর উপর রাগ করে.
তিনি একাধিকবার বিজেপির ঘরোয়া বৈঠক বা প্রকাশ্য মিটিংয়ে শঙ্করবাবুর সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন.
আর এখানেই প্রশ্ন উঠতে শুরু, তাহলে কি শুধু টিকিট নিয়ে জেতার জন্যই বিশ্বজিৎবাবু তৃণমূল ছেড়ে সেদিন বিজেপিতে এসেছিলেন. এই দলবদল এর খেলা দেখতে দেখতে বাগদার মানুষ ক্লান্ত হয়ে উঠেছে.
তারা দাবী রাখতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলি যদি উপ নির্বাচনের দাবি রাখতে পারে, তাহলে আমরা বাগদার মানুষ কেন পুনঃনির্বাচনের দাবি রাখতে পারব না.
বিশ্বজিৎ বাবুর সাথে তৃণমূলে যোগদান করেছেন আরএক বয়স্ক বারে বারে দলবদলে নেতা সুব্রত পাল.
তিনি তৃণমূলে যোগদান করার সাথে সাথে গাঁড়াপোতা অঞ্চলের আঞ্চলিক কিছু তৃণমূল নেতৃত্ব ইতিমধ্যে বলতে শুরু করেছেন আমাদের সুখের সংসার আবার আগুন লাগাতে এসেছেন সুব্রত বাবু.
এমনিতেই নীলদর্পণ ব্লক সভাপতি নন্দদুলাল বসু মারা যাওয়ার পরে অঞ্চলের আঞ্চলিক নেতৃত্ব নেতৃত্বের অভাবে ভুগছে.
সেই স্থানযে সুব্রত বাবু কতটা পূরণ করতে পারবে এটা গাঁড়াপোতা অঞ্চলের তৃণমূল নেতৃত্বের কথাতেই পরিস্কার ভাবে উঠে আসছে.
তবে রাজনৈতিক ভাবে কোন কিছুই সম্ভব নয়. বারে বারে বাংলার মানুষ দেখতে পাচ্ছে. রাজনীতি যে কত নোংরা পর্যায়ে চলে যেতে পারে এটা বাংলার রাজনৈতিক নেতাদের না দেখলে বোঝা যাবে না.
বাগদার একজন নিরপেক্ষ সাধারণ নাগরিক বলেন, আমরা সরাসরি কখনো পার্টি করিনা. আমি একজন তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষ. তপশিলি সম্প্রদায় মানুষদের নিয়ে সমস্ত রাজনৈতিক দল খেলা করে.
এই সম্প্রদায়ের কিছু নেতারা আছে তারা নিজেদেরকে প্রভু মনে করেন তপশিলি সম্প্রদায়ের. তপশিলি সম্প্রদায়ের জন্য কিছু তারা করে না. আমাদের তপশিলি সম্প্রদায় এর বর্তমানের মাথা বলে দাবি রাখেন. শান্তনু ঠাকুর নিজে যতটা শক্তিশালী হয়েছে বিজেপির পার্টিতে, তার সম্প্রদায়ের মানুষকে কিন্তু তিনি বিজেপিতে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি সে ভাবে.অখন্ড বারাসাত জেলা সভাপতি নির্বাচনের সময় পরোক্ষভাবে তিনি শংকর চাটার্জীকে সেদিন সমর্থন করেছিলেন. তার সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তিনি বারাসাত জেলাকে সাংগঠনিকভাবে ভাগ করে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৈরি করলেন এবং নিজের পছন্দের মানুষকে সভাপতি করলেন. কিন্তু যতদূর জানা যায় দুজন সভাপতি কেউ কিন্তু তপশিলি সম্প্রদায় ছিল না. তাই বাগদা বিধানসভার মানুষের আর কষ্টের সীমা নেই রাজনৈতিকভাবে.
বাগদার মানুষ অভিযোগ করতে শুরু করেছেন শান্ত ঠাকুরের কারণেই বিশ্বজিৎ দাস বাগদায় টিকিট পেয়েছে.
তাই এখানকার মানুষের একটাই কথা শান্তনু ঠাকুর সঠিক মানুষ নির্বাচন করতে পারেনি কখনো.
সে সভাপতি নির্বাচন হোক বা বিধায়ক সমর্থনে হোক.
এখানকার কর্মী সমর্থকদের দাবি বিজেপি রাজ্য নেতাদের কাছে, অবিলম্বে বাগদা বিজেপির সাংগঠনিক পরিবর্তন প্রয়োজন. না হলে আগামী দিনে বনগাঁ বিজেপির আরো খারাপ দিন অপেক্ষা করছে.
0 coment rios: