Thursday, 10 November 2022

ডিসেম্বর আতঙ্ক কিভাবে চাপে রাখবে তৃণমূল কে

শুভ কল্যাণ বিশ্বাস ,  দৃষ্টি বাংলা - ডিসেম্বর আতঙ্ক তৃণমূলের সমস্ত নেতা মন্ত্রী কে তারা করে বেড়াচ্ছে। কিন্তু কেন এই আতঙ্ক। আদেও কি আতঙ্কের কারণ আছে। নাকি আতঙ্ক তৈরি করে তৃণমূলকে চাপে রাখার একটা রাজনৈতিক কোন রণকৌশল? সবটাই ধোঁয়াশা সাধারণ মানুষের কাছে। তবে ডিসেম্বরে দেশের মধ্যে কিছু একটা হতে যাচ্ছে সেটা সকল মানুষ বুঝতে পারছে। বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে TMC সরকার ক্ষমতায় এসেছে । কিন্তু তারপরও তারা কেন আতঙ্কের থাকবে।
এই সব উত্তর ডিসেম্বর মাস আসলেই বুঝতে পারা যাবে। তবে বাংলায় যে হারে দুর্নীতি হয়েছে এই সরকারের আমলে সেটা বোধহয় বাংলার কোনো সরকারের আমলে ঘটেনি।
শুধু দুর্নীতির কারনে সরকার পরে যাবে এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। ২১৩টি বিধায়ক নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল। ১৪৮ টি হলো ম্যাজিক ফিগার। তাহলে আতঙ্কে কেন থাকবে তৃণমূল যদি ৫০ টা বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেয় তাহলেও আতঙ্কের কিছু নেই বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
 কিন্তু সব সময় অংক কাজ করবেনা রাজনীতিতে। বিজেপি রাজ্য সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা  অর্জন করে ১০০ টি আসনে যেটা কিনা ম্যাজিক ফিগার রাজ্যসভায়। দেশের মধ্যে যেকোনো আইন  লাগু করতে হলে আইনসভার নিম্ন কক্ষ অর্থাৎ লোকসভায় ও উচ্চকক্ষ অর্থাৎ রাজ্য সভায় কোন আইন পাস হলেই তবে সেটা মান্যতা পায়।
 অনুমান করা যায় আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে  বেশ কিছু বিল আনতে চলেছেএই সরকার । যে আইন গুলি দেশের পক্ষে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে দেশের বেশিরভাগ মানুষ।
 পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চালু হলেই  রাজ্যের মধ্যে অস্থির পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। এনআরসি চালু হওয়ার ফলে যাদের ক্ষতির সম্ভাবনা তারা রাস্তায় নেমে আন্দোলনে  অংশগ্রহণ করলে রাজ্য সরকার সেই আন্দোলনকে প্রতিহত করতে না পারলে তখন রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা চরম অবনতি ঘটতে পারে।
 কয়লা পাচার কাণ্ডে  যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অ্যারেস্ট হয় তাহলে রাজ্য যুব তৃণমূল কর্মীরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করলে তখনো রাজ্যে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে।
 তবে সবটাই অনুমান সাপেক্ষ।
 অনেক তৃণমূল সাংসদ বিধায়ক দুর্নীতি ইস্যুতে তৃণমূল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। সরকারটা পড়ে গেলে বিজেপি হয়তো সেই সরকার গঠন করবে না তৃণমূল বিধায়কদের সমর্থনে।  তখন এটা হতে পারে রাজ্য সরকারটা রাজ্যপালের অধীনস্থ থাকতে পারে ছয় মাস। তারপরে লোকসভা এবং বিধানসভা ভোট একসাথেই হতে পারে পশ্চিমবঙ্গে।
 রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ নিয়ে সরকারের তালবাহনার সময় শেষ হতে চলেছে। সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা দিয়ে দেবে কিনা। DA চালু হওয়া মানে প্রতি মাসে বাড়তি অর্থ বরাদ্দ করতে হবে সরকারকে গত দশ বছরের তুলনায়। এমনিতেই সরকারটা দেউলিয়া হওয়ার মুখে যে কথা নিজের মুখে স্বীকার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
 সবদিক থেকে বিচার করলে এটা বোঝা যায়  তৃণমূল সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ২০২৩ খুবই যন্ত্রণাদায়ক বছর হতে চলেছে। 

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: