Wednesday, 5 July 2023

ট্যাংরা পঞ্চায়েতের 288 নং বুথে বিজেপি সমর্থিত নির্দল প্রার্থী শ্যামলী বালা অনেকটা এগিয়ে গেছে সকলকে পিছনে ফেলে

দীপশিখা ব্যানার্জী, বনগাঁ, দৃষ্টি বাংলা-ট্যাংরা পঞ্চায়েতের একমাত্র বিজেপি সমর্থিত নির্দল প্রার্থী শ্যামলী বালা সিপিএম টিএমসি কে প্রচারের অনেকটাই পিছনে ফেলে দিয়েছে। তিনি মিটিং মিছিলের উপর জোর না দিয়ে বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ করার চেষ্টা করছেন। বাকি সিপিএম প্রার্থী কাজল সরদার তৃণমূল প্রার্থী তপতী দাস বিশ্বাস মিটিং মিছিলে জোর দিলেও বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ সে ভাবে করছেন না। কিন্তু শিল্পী বালা জয়ের দিকে আস্তে আস্তে এগিয়ে চলেছে। তার পিছনে সমর্থন রয়েছে কংগ্রেস
সিপিএম বিজেপি সকলের। তাইতো তিনি জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। ২৬৮ নম্বর বুথের সভাপতি বিভূতি বালা বলেন, আমি বুথ সভাপতি আমাকে নমিনেশন দিতে বলার পরেও সিম্বল দেয়নি শংকর নন্দী, তাই এখানে যেহেতু বিজেপির কোন প্রার্থী নেই তাই আমি বিজেপির সমর্থনে নির্দল প্রার্থী হয়েছি। শংকর নন্দী দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি সারা জীবন ধরে সেটআপ রাজনীতি করেন শাসক দলের সাথে। এটা তার একটা ব্যবসা। এই কাজে তাকে সাহায্য করেছে জেলার সভাপতি রামপদ দাস। আমি শুনতে পাচ্ছি একাধিক জায়গায় জয়ী প্রার্থীদের টিকিট দেয়নি এই জেলার সভাপতি রামপদ দাস ও এই ব্লকের পঞ্চায়েত কনভেনার শংকর  নন্দী।
বনগাঁ ব্লকের বিজেপির পঞ্চায়েত কনভেনার শংকর নন্দী  তিনি নিজে এবার বনগাঁ চার নম্বর জেলা পরিষদের প্রার্থী। ট্যাংরা পঞ্চায়েতের 12 টি আসনের মধ্যে বিজেপি ছটা আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি। শঙ্কুর নন্দী তার নিজের বুথেই বিজেপির প্রার্থী দিতে পারেননি। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে টেংরা পঞ্চায়েতের একমাত্র বিজেপি মেম্বার ছিলেন গ্রাম টেংরা থেকে শিল্পী সদ্দার। এবারে বুথ টা ভেঙে দুটো হয়েছে। ২৮৮ নম্বর বুথের সভাপতি বিভূতি বালা এখানে বিজেপির প্রার্থী দিতে চাইলেও শংকর নন্দী সেটা করতে দেয়নি বলে অভিযোগ জানিয়েছেন বুথ সভাপতি বিভূতি বালা। তাইতো বুথ সভাপতি বিভূতি বালা নিজেই তার স্ত্রীকে বিজেপির সমর্থিত নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড় করিয়েছেন বটগাছ সিম্বলে।
 শংকর নন্দী বিজেপির জেলা পরিষদের প্রার্থী হলেও সেভাবে প্রচারে তাকে অংশগ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে না। সিপিএমের অভিযোগ তৃণমূলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্যই শঙ্কর নন্দী সেভাবে প্রচার করছেন না।
 তৃণমূল অবশ্যই অভিযোগ মিথ্যা বলেছেন, তৃণমূলের তরফ থেকে বলা হয়েছে, শংকর নন্দী তাদের কাছে কোন ফ্যাক্টর না,। বিজেপির মধ্যেই যার গ্রহণযোগ্যতা নেই। যে নিজের বুথে বিজেপির প্রার্থী দিতে পারেনা যার অঞ্চলে অর্ধেকের বেশি আসনে প্রার্থী দেয়নি বিজেপি, সে কোন মতেই আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে না। সিপিএমের এসব মিথ্যা অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই।
 বিজেপির ঘাটবোর অঞ্চলের  রামচন্দ্রপুর গ্রামের  গত কয়েকবারের মেম্বার গৌতম মন্ডল এর স্ত্রী জয়ী হয়ে আসছেন। জয়ী প্রার্থী হয়েও এবার তাকে দল টিকিট দেয়নি। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলায় পঞ্চাশের অধিক জয়ী প্রার্থীদের টিকিট দেয়নি বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বর্তমান নেতৃত্ব।
 এর পিছনে বিজেপির কোন রাজনৈতিক অংক কাজ করছে সেটা রাজনৈতিক মহলের ধারণার বাইরে।
 তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক যারা তাদের মতে এটা নতুন পুরনো বিজেপির দ্বন্দ্ব হতে পারে। বাগদা বিধানসভা থেকে বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেত্রী ইন্দিরা দাসকে দল টিকিট দেয়নি, এছাড়া রিম্পা ঘোষকে পঞ্চায়েত প্রার্থী করেনি দল।
 এই মন্ডলের সভাপতি সুজয় বিশ্বাস সরাসরি জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে প্রার্থী দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। যাদেরকে বিধানসভার পঞ্চায়েত কনভেনার করা হয়েছে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা জুড়ে তাদের বেশিরভাগ কনভেনার নিজের অঞ্চলেই প্রার্থী দিতে পারেননি।
 বিজেপির সিম্বলে প্রার্থী হতে চাইলেও এই সমস্ত কনভেনেরা তাদেরকে টিকিট দেয়নি কোন অংকে সেটাই বোধগম্য হচ্ছে না।
 বনগাঁ লোকসভায় যারা প্রার্থী হয়েছেন বিজেপির হয়ে তারা বেশিরভাগই সেই বুথের ভোটার নন।
 আপাতত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে বিজেপি বেশিরভাগ বুথে প্রার্থী দিয়েছে। কিন্তু এই তথ্যগুলো বেশিরভাগই দুই এক বছর আগে দলে এসেছে।
 ২০১৮ সালে যারা পঞ্চায়েতে সন্ত্রাসকে উপেক্ষা করে লড়াই করেছিল তাদেরকে ৯০ শতাংশ মানুষকে প্রার্থী করা হয়নি এবার পঞ্চায়েতে। এর পিছনে কোন অংক কাজ করছে সেটা জেলা বিজেপি বলতে পারে। 

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: