অংকটা খুব সহজ। যেমন কর্ম তেমন ফল। মুকুটমনি অধিকারী রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভার মানুষের সঙ্গে যে প্রতারণা করেছেন সেটা ২০২৬ সালেই টের পাবেন।
২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে মুকুটমনি অধিকারী বিজেপির হয়ে ১ লক্ষ ১৯ হাজার ২৬০ ভোট পেয়েছিলেন।
আর তৃণমূলের বর্ণালী দে পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ২হাজার ৭৪৫ ভোট। বিজেপির মুকুটমনি অধিকারী ১৬ হাজার ৫১৫ ভোটে জয়লাভ করেছিলেন ২০২১ সালে।
কিন্তু মুকুটমণি অধিকারী দলের সাথে বেইমানি করে তৃণমূলের যোগদান করেছিলেন। তিনি পদত্যাগ করায় এই বিধানসভায় ২০২৪ সালে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিনি ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৫৩৫ ভোট পেয়েছিলেন। আর বিজেপির মনোজ কুমার বিশ্বাস পেয়েছিলেন ৭৪ হাজার ৪৮৫ ভোট। মনোজ বাবু মুকুটমনি অধিকারীর কাছে ৩৯ হাজার ৪৮ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন।
উপ নির্বাচনে মনোজ বাবুকে প্রার্থী করা নিয়ে বিজেপি দলের মধ্যে প্রবল বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল। রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভার মানুষ চেয়েছিল এখানকার স্থানীয় ভূমিপুত্র কে।
উপনির্বাচনে স্থানীয় কর্মীদের সেভাবে পরিশ্রম করতে দেখা যায়নি।
তবে এবার বিধানসভা নির্বাচনে আওয়াজ উঠেছে ভালো কোন নেতৃত্বকে প্রার্থী করতে হবে।
আমাদের জনমত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ২০২৬-এ বিধানসভায় ৪৯-৫১ % সামান্য কিছুটা এগিয়ে আছে তৃণমূল। তবে তৃণমূল মুকুটমনি অধিকারী কে প্রার্থী করলে হেরে যাওয়া সম্ভাবনা আছে। সে ক্ষেত্রে বিজেপিকে শক্ত পোক্ত প্রার্থী দিতে হবে।
শাসক দল তৃণমূল হয়তো পুনরায় মুকুটমনি অধিকারী কে প্রার্থী করতে পারে।
কিন্তু বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে বেশ কয়েকটি নাম ঘোরাঘুরি করছে।
রাজ্য তপশিলি মোর্চার সভাপতি ও ডক্টর আম্বেদকর ফাউন্ডেশনের সদস্য সুদীপ দাস কে এই বিধানসভায় বিভিন্ন জায়গায় কার্যক্রম করতে দেখা যাচ্ছে কর্মীদের নিয়ে। কর্মীদের সঙ্গে জনসংযোগ, চা চক্র, বস্ত্র বিতরণ ইত্যাদির অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই বিধানসভায় পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। তিনি যে প্রার্থীর দৌড়ে প্রথমেই থাকবেন এটা অনুমান করা যাচ্ছে। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকি।
তবে সুদীপবাবুর কার্যক্রম বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে এই বিধানসভায়। আমরা সূত্র মারফত জানতে পারছি আগামীকাল পাট চাষীদের জন্য সরঞ্জাম বিতরণ করা হবে । সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেন। তবে তিনি যে এই বিধানসভা কে পাখির চোখ করে এগোচ্ছেন সেটা বেশ ভালই বোঝা যাচ্ছে। এলাকার মানুষের একটাই দাবি ভূমি পুত্রকেই তারা প্রার্থী হিসেবে চাইছে।
তবে এলাকায় সুকান্ত বিশ্বাসের নাম ও মহাদেব সরকারের নামও শোনা যাচ্ছে। সুকান্ত বিশ্বাস যুব নেতা। মহাদেব সরকার তিনি কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা থেকে পর পর তিনবার ভোটে দাঁড়িয়েছেন।
0 coment rios: