আর বিজেপির হেমন্ত ঘোষ পেয়েছিলেন ৪২ হাজার ৩৭৪ ভোট যা মোট পোলিং ভোটের ২৩ শতাংশ।
আর সিপিএমের মইনুল হক তিনি পেয়েছিলেন ৩৬ হাজার ২০৫ ভোট যা মোট পোলিং ভোটের ১৯ শতাংশ।
এই বিধানসভায় এসআই আর হলে কমপক্ষে কুড়ি হাজার ভোট বাতিলের সম্ভাবনা তৈরি হবে। যেটা এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবুও এবারও এই বিধানসভায় তৃণমূল এগিয়ে থেকেই শুরু করবে।
২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূলের অভিষেক ঘটলেও এই বিধানসভায় তৃণমূল সেবার খাতা খুলতে পারেনি।
২০১৬ সালে এখানে কংগ্রেসের বিধায়ক ছিল মইনুল হক। তিনি পেয়েছিলেন ৮৩ হাজার ৩১৪ ভোট। যেটা মোট পোলিং ভোটের ৫১ শতাংশ।
তৃণমূলের মোঃ মোস্তফা তিনি পেয়েছিলেন ৫৫ হাজার ১৪৭ ভোট যা মোট পোলিং ভোটের ৩৩ শতাংশ।
আর বিজেপির ইন্দ্রনাথ উপাধ্যায় তিনি পেয়েছিলেন ১৫ হাজার ৯৫২ ভোট।
২০২১ সালে বিজেপির প্রার্থী ঠিকঠাক নির্বাচন হলে আরো ভালো ফল হতে পারত এখানে।
ফারাক্কা বিধানসভায় বিজেপি সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রবল ভাবে মাথাচারা দিয়েছে। এখানে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দুই তিনটে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
যেটা বিজেপির মাথাব্যথা কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তার উপরে ফারাক্কা বিধানসভার ১ নম্বর বুথ শিকারপুর থেকে ২১৬ নম্বর বুথ জাফরাবাদ কোথাও বিজেপি শক্তিশালী সংগঠন সেভাবে গড়ে ওঠেনি। কিন্তু চৌকিগ্রাম, জাফরগঞ্জ, ফারাক্কা ব্যারেজ, কাশিনগর, পলাশী, চন্ডিপুর, শ্রীরামপুর, ইত্যাদি জায়গায় বিজেপি সংগঠন কিছুটা হলেও শক্তিশালী । মন্ডল ১এর সভাপতি স্বপন ঘোষ, মন্ডল ২ এর সভাপতি পিন্টু মন্ডল,মন্ডল -৩ এর সভাপতি স্বপন ঘোষ এবং মন্ডল ৪ এর সভাপতি প্রফুল্ল ভাস্কর। খোঁজ নিয়ে দেখা যায় কোন মন্ডলই সেভাবে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে পারেনি ফারাক্কা বিধানসভা।
এই বিধানসভায় ১২ টি বিজেপির মেম্বারও আছে।
ফারাক্কায় সমস্ত নেতাদের আনাগোনা। এখানে বিভিন্ন বিধানসভা লোকসভার সাংসদ এম এল এ দের মাঝেমধ্যেই দেখা যায়।
এখানে ২১৬ টি বুথের মধ্যে বিজেপি মাত্র ১২৩টি বুথে কমিটি করতে পেরেছে। তার মধ্যে আবার পরিপূর্ণ কমিটি হয়েছে ৮৭ টি। ৩৫টি বুথে শুধুমাত্র সভাপতি আছে কিন্তু তার কমিটি নেই। বাকি ৫৮টি বুথে কমিটিই নেই।
এই সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণ যাদেরকে প্রার্থী করা হয়েছে তারা সারা বছর সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকে না। ভোটের ৬ মাস আগের থেকে এদেরকে দেখা যায়। এই কারণে বিজেপির সংগঠন ধীরে ধীরে এখানে আরো দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে উঠেছে।
তবে সমস্ত কর্মীদের যদি সঙ্ঘবদ্ধ করে ময়দানে নামতে পারে বিজেপি এবং SIR হলে কুড়ি হাজার ভোট বাদ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেই কারণে এই বিধানসভা এবার পাখির চোখ করছে বিজেপি।
এখানে বিজেপি একমাত্র লড়াইতে আসতে পারে যদি সিপিএম কংগ্রেস একত্রিত হয়ে জোট করে প্রার্থী দেয় , সেক্ষেত্রে সংখ্যালঘু ভোট ভাগাভাগি হয়ে যাবে ও সিপিএম কংগ্রেসের হিন্দু ভোটারগুলি বিজেপির ঝুলিতে আসতে পারে শুধু তাই নয়
আর বিজেপিকে সর্বসম্মতভাবে প্রার্থী ঠিক করতে হবে।। অবশ্যই সে সুশিক্ষিত এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে জনসংযোগ রাখেন এই রকম রাত্রি ঠিক করতে হবে। সর্বোপরি এস আই আর হলে প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ ভোট কাটা যেতে পারে যা বেশিরভাগটাই মুসলিম ভোটার। আর এই বেশিরভাগ ভোটই তৃণমূলের দখলে যায়।
এখন দেখে নেওয়া যাক প্রার্থীর দৌড়ে কারা কারা আছে শাসক দল এবং বিরোধী দলের।
শাসক দলের প্রার্থী হওয়া দৌড়ে রয়েছেন গতবারের বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। এবারও তিনি প্রার্থীর দৌড়ে সবার উপরেই থাকবেন। কিন্তু এখানে একটা বিষয় তৃণমূলকে চিন্তায় রাখবে সেটি হল, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের থেকে ৫ বারের বিধায়ক মইনুল হক তিনি তৃণমূলে যোগদান করেন। একুশে বিধানসভা নির্বাচনের পরপর। তাই এখানে তৃণমূলের দুটো গ্রুপ-আড়িভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে একটা হল মনিরুল ইসলাম এর গ্রুপ ও আর একটা গ্রুপ মইনুল হকের। কোন গ্রুপ থেকে তৃণমূল কাকে প্রার্থী করবে সেটা ঠিক করবে তৃণমূল।
বিজেপি থেকে প্রার্থী হওয়া দৌড়ে রয়েছেন বিজেপি ট্রেড ইউনিয়নের নেতা অমর চক্রবর্তী। তিনি ফারাক্কা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। তার জনপ্রিয়তা তাকে প্রার্থী হওয়ার দৌড়েই সকলের উপরেই আসবেন। কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে তাকেই কর্মীরা প্রার্থী হিসেবে চাইছে এবার ফারাক্কা বিধানসভায়। তার সঙ্গে অনেক মুসলিম নেতৃত্বের যোগাযোগ আছে বলে শোনা যায়।
এরপর জনমত সমীক্ষায় উঠে এসেছে, গত ২০২১শে বিধানসভা নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে যিনি প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে অমর চক্রবর্তীর পাশাপাশি তিনিও ছিলেন সেই অনুপ সিংহের নাম। তিনি একজন উচ্চ শিক্ষিত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। গতবার তিনি প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে প্রার্থী হতে পারেননি তবুও তিনি সারা বছর সংগঠনের কাজ করে গেছেন।
কিন্তু যিনি প্রার্থী হয়েছিলেন ২০২১শে তিনি সেভাবে সংগঠনের সঙ্গে ও কর্মীদের সঙ্গে জনসংযোগ রাখিনি বলে কর্মীদের অভিযোগ। তবে এবারও তিনি প্রার্থী দৌড়ে রয়েছেন প্রথম দিকেই। হেমন্ত ঘোষ কে যদি দল প্রার্থী করে তাহলে কর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিতে পারে বলে কর্মীদের অভিযোগ। এখন দেখার বিষয় দল কি সিদ্ধান্ত নেয়। তবে গতবার বিধানসভা নির্বাচনে হেমন্ত ঘোষ বাদে অন্য কেউ প্রার্থী হলে ফল আরো বিজেপির ভালো হতো বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত।
এরপরও নাম উঠে আসছে অয়ন ঘোষের। তিনি বর্তমানে জেলা সেক্রেটারি। তিনিও দৌড়ে আছেন। ইন্দ্রনাথ উপাধ্যায়ের নাম ও প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। তিনি ২০১৬ সালে বিজেপির টিকিটে ১৫ হাজারের একটু বেশী ভোট পেয়েছিলেন।
এখন দেখার বিষয় দল কাকে ফারাক্কা বিধানসভায় টিকিট দেয়।
তবে আমাদের জনমত সমীক্ষায় যে তথ্য উঠে এসেছে, এবার ফারাক্কা বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে। তৃণমূল- কংগ্রেস সিপিএমের জোট - ও বিজেপি।
৪৮৩৪জন সাধারণ মানুষ, ৩০৩ দোকানদার, ১২৪টি টোটো ড্রাইভার, ৮৫ টি অটো ড্রাইভার এর মতামতের ভিত্তিতে এই সমীক্ষা করা হয়েছে।
এই মুহূর্তে ফারাক্কা বিধানসভায় ভোট হলে তৃণমূল ৬০-৪০ এগিয়ে থাকবে।
0 coment rios: