Sunday, 14 February 2021

মধ্যমগ্রাম বিধানসভায় জমজমাট লড়াই দেখার অপেক্ষায় বাংলার মানুষ. কারা আছে প্রার্থীর দৌড়ে জানুন.

নিজস্ব প্রতিনিধি, দৃষ্টি বাংলা,  মধ্যমগ্রাম -  আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হবে কিনা সময় বলবে.  তবে মধ্যমগ্রাম বিধানসভার রাজনৈতিক পালাবদল শুধু সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা. এই বিধানসভার 31.36 শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে. আর 68.64 শতাংশ মানুষ শহরে বাস করে.
 2011 সেন্সাস অনুযায়ী এই বিধানসভায় 2 লক্ষ 58 হাজার 027 আমি বসবাস করে.
 এই বিধানসভার মাত্র 2 থেকে 3 শতাংশ মানুষ সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত.
 এই বিধানসভার 287 টি পোলিং স্টেশনে মানুষ শান্তিতে ভোট দিতে পারলেও গত লোকসভায় কিছু কিছু পোলিং স্টেশনে শান্তিপূর্ণ ভোট হয়নি.
 মধ্যমগ্রাম বিধানসভায় 12. 78 শতাংশ তপশিলি ভোটার ও 1.66 শতাংশ আদিবাসী ভোটার. এই ভোটারদের বেশিরভাগ অংশই গ্রামে বসবাস করে. করোনা এবং আম্ফান পরবর্তী সময়ে এই 32 শতাংশ মানুষ যারা গ্রামে বসবাস করে তারাই সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে.
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এবারের বিধানসভায় এই 32% ভোটারই নির্ণয় করবে মধ্যমগ্রাম বিধানসভার ভাগ্য. সব দলই চাইছে গ্রামে বসবাস করি 32 শতাংশ ভোটার কে তাদের দিকে আনতে.
 2016 সালের মধ্যমগ্রাম বিধানসভা ভোটের পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এখানে তৃণমূলের রথীন ঘোষ 1 লক্ষ 10 হাজার 271 ভোট পেয়েছিলেন.
 কংগ্রেসের তাপস মজুমদার পেয়েছিলেন 74 হাজার 467 ভোট.
 বিজেপির দেবাশীষ মিত্র পেয়েছিলেন 17 হাজার 148 ভোট.  বহু জন সমাজ পার্টির হিমাংশু মন্ডল পেয়েছিলেন 2886 ভোট.
 অর্থাৎ 2016 সালে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই দিয়েছিল কংগ্রেস. তখন এই বিধানসভায় তৃণমূলের প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল কংগ্রেস.
 কিন্তু 2019 এর লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা ও লোকসভার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়. এখানে তৃণমূলের প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে বিজেপি.
 এখানের লোকসভা ভোটে তৃণমূলের কাকলি ঘোষ দস্তিদার পেয়েছিলেন 1 লক্ষ 6 হাজার 815 ভোট.
 বিজেপির মৃনাল কান্তি দেবনাথ পেয়েছিলেন 72 হাজার 379 ভোট.  অর্থাৎ তিন বছরের মধ্যে মধ্যমগ্রাম বিধানসভায়  কংগ্রেস কে হটিয়ে দিয়ে বিজেপি প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে তৃণমূলের.
কিন্তু বিগত এক বছরের মধ্যে করোনা মহামারী ও আম্ফান পরবর্তী সময়ে যেভাবে বিজেপি তাদের রাজনৈতিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি করেছে এই বিধানসভা জুড়ে তাতে আগামী বিধানসভায় তৃণমূলের  প্রধান প্রতিপক্ষ এখন বিজেপি.প্রায় 300 শতাংশ শক্তি বৃদ্ধি হয়েছে বিজেপির বিগত এক বছরের মধ্যে. এটাই এখন তৃণমূলের মাথা ব্যথার কারণ. তৃণমূলের যারা ভোটার মেশিন হয়ে  বুথ স্তরের কাজ করেন তারা অনেকেই এখন ইন্যাক্টিভ হয়ে বসে আছে. এই বিষয়টি তৃণমূলকে সমস্যায় ফেলতে পারে. এখন দেখার বিষয় তৃণমূল এই চ্যালেঞ্জ কিভাবে গ্রহণ করে. এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থী কে হতে পারে সেটা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে তৃণমূলের  অন্দরে তবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রথীন ঘোষ কেই ধরে নেওয়া হচ্ছে.  তবে হাওয়ায় ভাসছে তৃণমূল এবার মধ্যমগ্রাম বিধানসভায় নতুন কোন মুখকে তুলে নিয়ে আসতে পারে.
 আর বিজেপির প্রার্থীর দৌড়ে যারা রয়েছেন তারা হলেন বাদল ঘোষ. যিনি বারাসাত জেলার সহ-সভাপতি.
 দেবাশীষ মিত্র. তিনি 2016 সালে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন.  বর্তমানে তিনি রাজ্যের সহ-সভাপতি পদে আছেন. এবং একটি জেলার অবজারভার.
 আছেন বিজয় ব্যানার্জি.  যিনি রাজ্য কমিটির সদস্য ও নবদ্দীপ জোনের কনভেনার. প্রার্থীর দৌড়ে রয়েছেন তিনিও.
 তবে 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনে মধ্যমগ্রাম বিধানসভায় কার দখলে যায় সেটা দেখার জন্য বাংলার মানুষ মুখিয়ে আছে. বর্তমান পরিস্থিতিতে সামান্য হলেও তৃণমূল এগিয়ে. কিন্তু পরিস্থিতি দিন দিন তৃণমূলের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে. পরিস্থিতি বদল না হলে, তৃণমূল হয়তো এই বিধানসভা হেরে যেতে পারে.


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: