লোকসভা ভোটের পর জল অনেক দূর গড়িয়েছে. ক্রমশ শক্তি বৃদ্ধি হয়েছে বিজেপির ও শক্তি ক্ষয় হয়েছে তৃণমূলের. বিধানসভা ভোটের মুখে তৃণমূল ছেড়ে অনেক হেভিওয়েট নেতা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে. যেটা কিনা তৃণমূলের মাথা যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে. সর্বশেষ রাজ্যসভার সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন. দীনেশ ত্রিবেদী রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে বিষোদগার করেছেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে. যেটা কিনা তৃণমূলের হজম হওয়ার কথা নয়.যেভাবে নেতারা দলে দলে যোগ দিচ্ছে বিজেপিতে এটা মোটেও ভালো লক্ষণ নয় তৃণমূলের কাছে. কিন্তু কিছুই করার নেই.
211 টি আসন পাওয়ার পরে তৃণমূল যেভাবে বিরোধীদের ভাঙ্গিয়ে নিজের দলের দিকে টেনে ছিলেন. আর এই ভাঙ্গা-গড়ার কাজটা করেছিলেন তখনকার তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মুকুল রায়.সেই একি ট্রাডিশন অব্যাহত আছে. কিন্তু দল ভাঙছে তৃণমূলের গড়েছে বিজেপি.
2016 সালে বিধানসভা নির্বাচনে গাইঘাটা বিধানসভার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়. এখানে তৃণমূলের পুলিনবিহারী রায় তখন 93 হাজার 812 ভোট পেয়েছিলেন. সিপিএমের কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর পেয়েছিলেন 64 হাজার 240 ভোট. এই কপিল কৃষ্ণ ঠাকুর কিন্তু ঠাকুর বাড়ির কোন সন্তান ছিলেন না.
আর বিজেপির শংকর ঠাকুর পেয়েছিলেন 28 হাজার 796 ভোট. বহুজন সমাজ পার্টির অনিল বৈরাগী পেয়েছিলেন 1502 ভোট.
গাইঘাটায় অমিত শাহের জনসভার পর পশ্চিমবঙ্গে উদ্বাস্তু মানুষদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে নাগরিকত্ব আইন এর বিষয় নিয়ে. বিশেষ করে গাইঘাটা বিধানসভার মতুয়া সমাজের মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে. তৃণমূল দলকে সমর্থনকারী ( মমতা বালা ঠাকুর এর সমর্থনকারী) মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরা অভিযোগ করে বলতে চাইছেন, বিধানসভা ভোটের আগে কোনমতেই নাগরিকত্ব পাবে না মতুয়া সম্প্রদায়ের উদ্বাস্তু মানুষেরা.
যদিও শান্তনু ঠাকুর এর সমর্থনে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরা বলতে চাইছেন সি. এ.এ বা নাগরিকত্ব আইন যখন পাস হয়েছে তখন উদ্বাস্তুরা ঠিকই নাগরিকত্ব পাবে.
মমতা বালা ঠাকুর এর গ্রুপের লোকজন বলতে চাইছেন অমিত শাহের মিটিংয়ে কোন স্থানীয় বিজেপির লোকজন ছিল না. থাকলেও খুব অল্প কয়েকজন নেতা কর্মী ছিলেন.গাইঘাটা বিধানসভার সিংহভাগ বিজেপি নেতা নেত্রীরা এই মিটিংয়ে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেনি.
গাইঘাটা বিধানসভার এবার বিজেপির প্রার্থী কে হবে সেটা কোটি টাকার প্রশ্ন? সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই এই কথাটাই ঘুরপাক খাচ্ছে কে হবে গাইঘাটা বিধানসভার প্রার্থী.
বিজেপি নেতাকর্মীদের মুখে একটাই কথা ঠাকুরবাড়ি জন্য গাইঘাটা বিধানসভার আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে.
ভোটের মুখে যেভাবে বারাসাত সাংগঠনিক জেলা ভেঙে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা করা হলো শান্তনু ঠাকুরের প্রত্যক্ষ মদদে তাতে একটা জিনিস স্পষ্ট হয়ে গেছে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সাতটা বিধানসভার আসনগুলিতে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে শান্তনু ঠাকুর এর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে.
সেক্ষেত্রে বিজেপি দল হয়তো ঠাকুরবাড়ির কাউকে এই বিধানসভার প্রার্থী করতে পারে.
গাইঘাটা বিধানসভার জনমত সমীক্ষা কিন্তু উল্টো কথা বলছে.এখানে বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে সবার উপরে যে নামটি উঠে আসছে সেটি হল দীর্ঘদিনের লড়াকু হিন্দুত্ববাদী নেতা দুলাল দেব সমাদ্দার. তিনি উদ্বাস্তু আন্দোলনের গাইঘাটা বিধানসভার একজন মুখ. পেশায় একজন ক্ষুদ্র উদ্যোগ প্রতি.তার এই উদ্যোগের সঙ্গে প্রায় 10 থেকে 15 হাজার কর্মসংস্থান প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িয়ে রয়েছে. তিনি এলাকায় একজন সৎ নির্ভীক হিন্দুত্ববাদী নেতা হিসেবে নিজেকে পরিচিতি দিয়েছে.
এরপরে যে নামটি উঠে আসছে সর্বসম্মতভাবে তিনি জগদীশ সরকার. তিনি একজন হিন্দুত্ববাদী দীর্ঘ দিনের পুরনো বিজেপি নেতৃত্ব. বর্তমানে তিনি রাজ্য তপশিলি মোর্চার সহ-সভাপতি ও নবদ্দীপ জোনের তপশিলি মোর্চার কনভেনার.
এরপরে নাম উঠে আসছে ডাক্তার রমেশ চন্দ্র বর. বাড়ি ঠাকুর নগর. এই ব্যক্তি বর্তমানে রাজ্য তপশিলি মোর্চার সদস্য ও হুগলি জেলার তপশিলি মোর্চার পর্যবেক্ষক. করোনা ও আম্ফান পরবর্তী সময়ে তিনি বিভিন্ন সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন. বিজেপির সমস্ত স্তরের প্রোগ্রামে প্রায় তাকে দেখা যাচ্ছে. তিনি রয়েছেন প্রার্থীর দৌড়ে.
এরপরে যে নামটি উঠে আসছে তিনি মলয় মন্ডল. তিনি অল্প কিছুদিনের জন্য বারাসাত জেলা তপশিলি মোর্চার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন. তিনি শান্তনু ঠাকুর এর বিরোধী গোষ্ঠীর লোক হিসেবে পরিচিত. বর্তমানে তিনি রাজ্য তপশিলি মোর্চার মেম্বার.
যদিও এই নামগুলো সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় ঘোরাঘুরি করছে.
এখন দেখার দল কাকে প্রার্থী করে. হয়তো শেষমেষ দল ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রার্থী করতে পারে. তবে ভুল প্রার্থী নির্বাচন করলে বিজেপি এই গাইঘাটা বিধানসভা আসন টি হেরেও যেতে পারে.
এখন দেখার বিষয় দল জনমত সমীক্ষার গুরুত্ব দেয় না শান্তনু ঠাকুর এর ইচ্ছার গুরুত্ব দেয়.
0 coment rios: