Tuesday, 2 March 2021

স্বরূপনগর বিধানসভায় বিজেপি পিছিয়ে থাকলেও জোর লড়াই হতে পারে তৃণমূলের সঙ্গে 2021শে. কারা রয়েছেন প্রার্থীর দৌড়ে ?

নিজস্ব প্রতিনিধি, দৃষ্টি বাংলা,স্বরূপনগর - বনগাঁ লোকসভার মধ্যে সাতটি বিধানসভাই তপশিলি সংরক্ষিত. গত লোকসভা ভোটে বিজেপির শান্তনু ঠাকুর  সবথেকে কম ভোট পেয়েছিল এখান থেকে. আর সিপিএমের অলকেশ দাস  পেয়েছিলেন সবথেকে বেশি ভোট এখান থেকে.
 2019 লোকসভা ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়.  এই বিধানসভা থেকে তৃণমূলের মমতা বালা ঠাকুর পেয়েছিলেন 92 হাজার 174 ভোট.  বিজেপির শান্তনু ঠাকুর পেয়েছিলেন 68 হাজার 203 ভোট. আর সিপিএমের অলকেশ দাস পেয়েছিলেন 22 হাজার 797 ভোট.
 বিগত দুই বছরে স্বরূপনগর বিধানসভায় তৃণমূলের সংগঠন  অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে. এখানে সিপিএমের যে ভোট ছিল সেটা আড়াআড়িভাবে তৃণমূল-বিজেপি ভাগ করে নিয়েছে. সিপিএমের হিন্দু ভোটার গুলো চলে গেছে বিজেপির ঝুলিতে আর মুসলিম ভোটার গুলি চলে গেছে তৃণমূলের ঝুলিতে গত লোকসভায়.
 2016 গত বিধানসভায় কিন্তু এই চিত্র ছিল না বর্তমান যেচিত্র চোখে পড়ছে. আব্বাস সিদ্দিকের সঙ্গে  সিপিএম কংগ্রেস জোট করেছে. তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটে ভাগ বসাতে শুরু করেছে আব্বাস সিদ্দিকের দল ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট.
 গত বিধানসভা ভোটে এখান থেকে তৃণমূলের বিনা মন্ডল  পেয়েছিল 93 হাজার 807 ভোট. সিপিএমের ধীমান  সরকার পেয়েছিল 81 হাজার 866 ভোট.  বিজেপির মিহির কুমার বাগচী পেয়েছিলেন 12866 ভোট.  বি.এস.পির সন্তোষ কুমার বিশ্বাস পেয়েছিলেন 1088 ভোট.
 গত বিধানসভা ভোটে বিজেপি এখানে তৃতীয় স্থানে ছিল. গত লোকসভা ভোটে বিজেপি তৃতীয় স্থান থেকে উঠে দ্বিতীয় স্থানে আসে এই বিধানসভায়. আর 2021 শে   হয়তো  প্রথম স্থানে চলে আসতে পারে. জনমত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে  বিজেপি তৃণমূল এর মধ্যে  মাত্র 1% শতাংশ পার্থক্য রয়েছে.

 স্বরূপনগর বিধানসভার ভৌগোলিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়. এখানকার মানুষের অর্থনৈতিক জীবন কৃষি নির্ভর. কিছু মানুষ মাছের ভেড়ি ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত. মূলত কৃষিনির্ভর এই বিধানসভা. এই বিধানসভার প্রায়  100 শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে. বিধানসভার আসনটি এখন SC সংরক্ষিত হলেও এটি  জেনারেল ছিল প্রথম দিন থেকে.1957  সালে এখানকার প্রথম বিধায়ক হন মোহাম্মদ ইসহাক.  2011 সাল থেকে এই আসনটি SC সংরক্ষিত হয়ে যায়. অর্থাৎ বনগাঁ লোকসভা সাতটি বিধানসভাই SC সংরক্ষিত.
2011 সেন্সাস জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী এখানে মোট লোক বাস করত 2 লক্ষ 94 হাজার 48 জন. যার মধ্যে 98.52 শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে এবং 1.48 শতাংশ মানুষ শহরে বাস করে. যদিও লোক সংখ্যা বর্তমানে তিন লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে. এই বিধানসভায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় 23 শতাংশ. যার মধ্যে 18 শতাংশ মুসলমান জনসংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে এবং 5 শতাংশ হিন্দু জনসংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে.
 বর্তমানে এই বিধানসভায় SC ভোটার 29.64 শতাংশ এবং ST ভোটার 0.25 শতাংশ. প্রায় 27 শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে এই বিধানসভায়.
 2019 সালের ভোটার লিস্ট অনুযায়ী এখানে 271 টি ভোট কেন্দ্রে ছিল. বর্তমানে 23 শতাংশ বুথ সংখ্যার বৃদ্ধি হয়েছে.

 জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী তৃণমূল এখানে কাকে প্রার্থী করে সেটাই দেখার. তবে যিনি বিধায়ক আছেন তিনি হয়তো প্রার্থী হবেন এখান থেকে. বিনা মন্ডলকে হয়তো আবারো লড়তে দেখা যাবে তৃণমূলের টিকিটে.
 জোটের প্রার্থী হিসাবে সিপিএমের কোন প্রার্থী এখানে দাঁড়াতে পারে. তবে তার নামটা এখনও স্পষ্ট নয়. দুই-একদিনের মধ্যেই জানা যাবে.
 বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে এই মুহূর্তে যারা রয়েছেন.1) রিপন  বিশ্বাস. তিনি বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তপশিলি মোর্চার সভাপতি.
2) বৃন্দাবন সরকার. তিনি বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক.
3) মহিতোষ বৈদ্য. তিনি মতুয়া মহাসঙ্ঘের দায়িত্বে আছেন.
4) ডঃ রমেশচন্দ্র বরের নাম শোনা যাচ্ছে. তিনিই বিধানসভার ভোটার নয়.  রাজ্য কমিটির সদস্য এবং হুগলি জেলার SC মোর্চার  অবজারভার তিনি.

5) রাখাল হালদার. তিনি রাজ্যে তপশিলি মোর্চার সদস্য. কিন্তু এই বিধানসভার  ভোটার নয়  এবং 2011 সালে বিজেপির  প্রার্থী ছিলেন এখান থেকে. ঠাকুরবাড়ি ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত.
6) মুকুল ঘনিষ্ঠ একজনের নাম এখান থেকে শোনা যাচ্ছে. তবে তিনি কে সেই নাম  নাম জানা যাচ্ছে না.
 তবে বিজেপি এখানে সঠিক প্রার্থী দিলে  জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে. ভুল প্রার্থী নির্বাচনে বিজেপির জয় হাতছাড়া  হয়ে  যেতে পারে.


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: