Sunday, 27 November 2022

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম প্রকাশ্যে একই মঞ্চে বিজেপির পরপর দুদিন প্রোগ্রাম কিন্তু কেন?

  - আজ ও গতকাল মিলিয়ে গাইঘাটা বিধানসভার ঠাকুরনগর একই মঞ্চ থেকে পরপর দুদিন বিজেপির কর্মসূচি লক্ষ্য করা গেল। গতকাল CAA আইন পশ্চিমবঙ্গ লাগু করার দাবিতে জাহাজ প্রতিমন্ত্রী  ও সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের উদ্যোগে  বিশাল জনসভা লক্ষ্য করা গেছে। সেই কর্মসূচিতে  কর্মীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। আজ আবার ঠাকুরনগরের সেই মঞ্চ থেকেই  জেলা সভাপতির  উপস্থিতিতে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। গতকাল মঞ্চে যাদের উপস্থিতির লক্ষ্য করা যায়নি আজকে তাদের উপস্থিতি এই কর্মসূচিতে লক্ষ্য করা গেছে। একমাত্র বনগাঁ বিধানসভার বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া বাদে।
 আজকের এই ঠাকুরনগরের শীতবস্ত্র  বিতরণ  এর প্রোগ্রামের মূল উদ্যোক্তা মলয় মন্ডল। উদ্যোগে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা। আশ্চর্যের বিষয় আজকের এই প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে প্রাক্তন এবং বর্তমান জেলার সভাপতি বনস্পতি দেব ও রামপদ দাসকে। কিন্তু গতকালের প্রোগ্রামের জেলা সভাপতি রামপদ দাস ও বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক স্বপন মজুমদারকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। একমাত্র অশোক কীর্তনীয়া গতকাল এবং আজকের প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকলেও সেই ভাবে তার স্বতঃস্ফূর্ততা  লক্ষ্য করা যায়নি একদিনও।
 রাজনৈতিক মহলের অভিমত একই মঞ্চ থেকে পরপর দুদিন যাত্রাপালা দেখা যায়। কিন্তু কোন দলের প্রকাশ্যে মঞ্চে পরপর দুদিন  রাজনৈতিক কর্মসূচি দেখল ঠাকুরনগরের মানুষ।
 গতকাল বনগাঁ লোকসভার  প্রায় সকল বিধায়কদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও  উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি, বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক স্বপন মজুমদার ও জেলা সভাপতি রাম পদ দাস কে।
 আজকের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন  বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি বনস্পতি দেব, বর্তমান জেলার সভাপতি  রামপদ দাস ,  স্বচ্ছ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কনভেনার  দুলাল চন্দ্রবর, বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক স্বপন মজুমদার, বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া, জেলার সহ-সভাপতি জ্ঞান প্রকাশ ঘোষ  সহ কিছু স্থানীয় নেতৃত্ব।
 পরপর দুইদিন একই জায়গায় একই মঞ্চে  রাজনৈতিক প্রোগ্রাম কর্মীদের উৎসাহিত করার বদলে তারা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছে। কর্মীদের মনের অবস্থা এই জেলায় শোচনীয় হয়ে পরছে দিন দিন। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কি চাইছে সেটাই বুঝতে পারছে না নীচু তলার কর্মীরা। মনে হচ্ছে এই জেলাটা দলের কেন্দ্রীয় শাসিত জেলা।
 যেখানে এই জেলা থেকে কর্মীরা ছ'টা বিধায়ক উপহার দিয়েছে গত বিধানসভা নির্বাচনে।
 সেই জেলায় কোথায় সরাসরি তৃণমূলের সঙ্গে লড়াই করবে তা নয়  উল্টে তারা নিজেদের মধ্যে লড়াই করতে ব্যস্ত। কে বড় নেতা  সেটা প্রমাণের তাগিদ যেন সকলের মধ্যে ঢুকে পড়েছে।
 পশ্চিমবঙ্গের অন্য জেলার বিজেপির সঙ্গে এই জেলায় বিজেপি কর্মীদের পার্থক্য অনেক আগে থেকেই ছিল।
 না হলে এই রকম তৃণমূলে ডামাডলের  বাজারে নিজেদের মধ্যে  বিজেপির নেতাদের বিবাদ তৃণমূল কে এই জেলায় অক্সিজেন দিতে পারে। যেটা পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাদের কাজে লাগবে।
 রাজনৈতিক মহলের অভিমত, বর্তমানে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির নেতা ও কর্মীরা দুটো ভাগে বিভক্ত। সেটা আজকের প্রোগ্রামের পর প্রমাণিত হয়ে গেল।
 কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এইভাবে প্রকাশ্যে ফাটল দেখা যায়নি কখনো বনগাঁ বিজেপির মধ্যে। এই ফাটল পঞ্চায়েত ভোটের আগেই নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।
 সূত্রের খবর , ডিসেম্বরে দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই বড় কোনো ঘটনা ঘটে যেতে পারে এই জেলায়। যেটা দুই গ্রুপের কাউকেই খুশি করতে পারবেনা। দুই গ্রুপ বাদ দিয়েই তৃতীয় কোন ব্যক্তির হাতে উঠে যেতে পারে এই জেলার দায়িত্বভার। না হলে এই ডামাডোল অবস্থা নিয়ে বনগাঁ বিজেপি ভালো কিছু ফল করার আশা করতে পারে না পঞ্চায়েত ভোটে। লোকসভা ভোটে ভাল কিছু করতে হলে অবশ্যই পঞ্চায়েত ভোটে এই জেলা থেকে বিজেপিকে অনেকগুলি পঞ্চায়েত বিজেপির দখল করতে হবে। এই জেলায় বিজেপি কে মানুষ ভোট দিতে চাইছে কিন্তু ভোটগুলোকে ভোট বাক্সে নিয়ে যাওয়ার মতো নেতা কর্মী এই মুহূর্তে বনগাঁ বিজেপির মধ্যে খুবই কম সংখ্যায় দেখা যাচ্ছে। কে বা কারা বড় নেতা সেটা প্রমাণের তাগিদ যেন এই জেলা নেতাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। আর এটা করার কারণেই একে অপরকে দোষারোপ করে চলেছে।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: