তার কারণ লক্ষীর ভান্ডার বাড়িয়ে দিলেই বাঙালি হিন্দু মহিলারা সমস্ত দুর্নীতি গুলো ভুলে যাবে। তাইতো তৃণমূলকে কোন বিধানসভায় হারাতে গেলে সেই বিধানসভা মানুষের চাহিদা এবং সেই বিধানসভায় তৃণমূলের দুর্নীতিগুলো তুলে ধরেই ওই বিধানসভার মানুষের কাছে তুলে ধরে ভোটের ময়দানে লড়াই করতে হবে।
মানুষের মৌলিক অধিকার গুলি এই বিধানসভায় রক্ষিত আছে কিনা প্রচারের আলোয় নিয়ে আসতে হবে বিজেপিকে। যে সম্পদের মানুষ বেশি বসবাস করে সেই সম্প্রদায়ের মানুষকেই প্রার্থী করার দিকে নজর দিতে হবে। চিন্তা করতে হবে ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করার। জনমত সমীক্ষায় দেখা গেছে এই বিধানসভায় মানুষের একটাই ক্ষোভ তারা সর্বদা ভূমিপুত্রকে বিধায়ক হিসেবে দেখতে চান এই বিধানসভায়। নাকাশিপাড়া বিধানসভায় ৪৭% মুসলিম ভোটার। তারপরেই ৩০% তপশিলি উদ্বাস্তু মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটার বসবাস করে। বাকি ২৩% হিন্দু অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভোটার।
২০১১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নাকাশিপাড়া বিধানসভার ডেমোগ্রাফি অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। ২০১১ সালে যেখানে মুসলমান ভোটার ছিল ৩৭%, সেটা ২০২৫ এ এসে দাঁড়িয়েছে ৪৭%।
২০১১ সালে হিন্দু ভোটার ছিল ৬৩% বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫৩%।
এইভাবে চলতে থাকলে আগামী দশ বছরের মধ্যে এই বিধানসভা মুসলিম ভোটারের সংখ্যা বেশি হয়ে দাঁড়াবে। এখানকার ভৌগোলিক ডেমোগ্রাফি অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে গেছে মফস্বলের এলাকাগুলিতে।
দেখে নিয়ে যাক ২০১১ সাল থেকে নাকাশিপাড়া বিধানসভা ভোটের ফলাফল।
নাকাশিপাড়া বিধানসভায় মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৪৭হাজার ৬৯১ জন। ১৯৫১ সাল থেকে এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এখানে মোট ভোটের ৫১ শতাংশ পুরুষ ভোটার এবং ৪৯ শতাংশ মহিলা ভোটার।
২০০৯ সাল থেকে নাকাশিপাড়া বিধানসভায় যে সমস্ত লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে এবং কোন দল কত শতাংশ ভোট পেয়েছে তার তথ্য তুলে ধরা হলো।
বিগত দুটি লোকসভায় এই বিধানসভায় ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়,
২০২৪ লোকসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস এখানে ৪৪.০৫% ভোট পেয়েছিল আর বিজেপি পেয়েছিল ৪১.০৮% এবং সিপিএম পেয়েছিল ১১.৮৭ %.
তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির মাত্র ৩ শতাংশ ভোট শেয়ার কম ছিল। গত লোকসভা ভোটে সিপিএম এই বিধানসভায় প্রায় ১২% কাছে ভোট পাওয়ার কারণে এখানে বিজেপি লিড দিতে পারেনি। তৃণমূল এই বিধানসভায় হিন্দু ভোট মাত্র ৫-৬% পেয়েছিল।
২০১৯ লোকসভা ভোটের বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তৃণমূল পেয়েছিল ৪৪. ০৯ শতাংশ, বিজেপি পেয়েছিল ৪২.৩ শতাংশ, আর সিপিএম পেয়েছিল ৮.২ শতাংশ।
অর্থাৎ বিগত দুটি লোকসভা আসনের তৃণমূল কিন্তু এখানে বেশি ভোট বাড়াতে পারেনি। নাকাশিপাড়া বিধানসভায় তৃণমূল তাদের ভোটব্যাঙ্ক অক্ষত রেখেছে বিগত ১৫ বছর ধরে। ৪৪ -৪৫ শতাংশ ভোট তারা বিগত এখনো ধরে রেখেছে। যার মধ্যে প্রায় ৩৮-৩৯% মুসলিম ভোটার।
তৃণমূলের কল্লোল খান ২০১১ সাল থেকে এখানে রানিং বিধায়ক এখনো পর্যন্ত।
২০১১ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের কল্লোল খান ৭৯ হাজার ৬৪৪ ভোট পেয়েছিলেন। যা মোট পোলিং ভোটের ৪৯ শতাংশ।
সিপিএমের গায়ত্রী সদ্দার ৬৩ হাজার ১৭০ ভোট পেয়েছিলেন। যা পোলিং ভোটার মোট ৩৯ শতাংশ। বিজেপির সুশীল বর্মন ১২হাজার ২২৭ ভোট পেয়েছিলেন। যা পোলিং ভোটের মোট ৭% শতাংশ।
২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের কল্লোল খান ৮৮ হাজার ৩২ ভোট পেয়েছিলেন। যা মোট পোলিং ভোটের ৪৭ শতাংশ। সিপিএমের তন্ময় গাঙ্গুলী ৮১ হাজার ৭৮২ ভোট পেয়েছিলেন। যা মোট পোলিং ঘটে ৪৩ শতাংশ। বিজেপির অনুপ কুমার মন্ডল পেয়েছিলেন ১২ হাজার ৭২৪ ভোট।
২০২১ সালে কল্লোল খান পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ৪হাজার ৮১২ ভোট। যা মোট পোলিং ভোটের প্রায় ৫০%। বিজেপির শান্তনু দেব পেয়েছিলেন ৮৩ হাজার ৫৪১ ভোট। আর সিপিএমের তন্ময় গাঙ্গুলি পেয়েছিল ১১হাজার ২৭৭ ভোট।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বিধানসভায় জনমত সমীক্ষায় উঠে এসেছে তৃণমূল সামান্য হলেও এগিয়ে আছে বিজেপির থেকে।
তৃণমূলের তরফ থেকে হয়তো কল্লোল খানকে ২০২৬শে প্রার্থী নাও করতে পারে। কনিষ্ক চক্রবর্তীর নাম শোনা যাচ্ছে প্রার্থী হওয়া দৌড়ে তিনি এগিয়ে আছেন। এবছর তৃণমূল পঞ্চাশের অধিক বিধায়কের টিকিট এবার পুনরায় নাও দিতে পারে।
জনমত সমীক্ষায় ও কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে বিজেপির শান্তনু দেব ও অনুপ কুমার মন্ডল, অনন্ত সরকার,অলক কুন্ডু আরো কয়েক জনের নাম নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
শাসক ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ভূমিপুত্রকে সকলেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছে। আর বিজেপির পক্ষ থেকে এলাকার মানুষের দাবি এই বিধানসভা এবার মতুয়া উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের প্রার্থী করা হোক। তার কারণ এই বিধানসভায় মুসলিম ভোটারের পরেই মতুয়া উদবাস্তু সম্প্রদায়ের ভোট সবচেয়ে বেশি।
এখন দেখা যাক শাসক এবং বিরোধীদল কাকে প্রার্থী করে।
0 coment rios: