বর্তমানে সারাদেশে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বলা যেতে পারে পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে এক কঠিন লড়াই হতে চলেছে। যে লড়াই হিন্দুদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। নবগ্রাম বিধানসভায় ৫৩% মুসলিম ভোটার ৪৭% হিন্দু ভোটার। ২৬৯ টি বুথ এই বিধান সভায়। যার মধ্যে ১৫০ এর উপরে বুথে মুসলিম ভোট সংখ্যা বেশী। তারপরেও এই বিধান সভায় লড়াই করার মতো জায়গা আছে বিজেপির।
অর্থাৎ ২০২৬-এ বিধানসভা নির্বাচনে এখানে তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ। কিন্তু তারপরেও এই জয় তৃণমূলের খুব সহজে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। নবগ্রাম বিধানসভায় তৃণমূলের জয়ের পিছনে যদি, কিন্তু,অথবা, ইত্যাদি, সমীকরন কাজ করবে। বিজেপি যদি সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করতে পারে তাহলে জোরদার লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে বিজেপির তরুণ তুর্কি নেতৃত্ব মানিক সরকারকে স্থানীয় মানুষেরা বিজেপির প্রার্থী হিসেবে চাইছে। তিনি আরএসএসের একজন পূর্ণ কালীন বিস্তারক ছিলেন । তিনি বিভিন্ন বিধানসভায় কাজ করেছেন বিস্তারকের।
২০১১ সাল থেকে কানাই চন্দ্র মন্ডল নবগ্রাম বিধানসভার বিধায়ক। ২০১১ এবং ২০১৬ সালে তিনি সিপিএমের বিধায়ক ছিলেন। এরপরে তিনি তৃণমূলে যোগদান করেন এবং ২০২১ সালে বিজেপি কে হারিয়ে তৃণমূলের বিধায়ক হন।
২০২১ সালে বিজেপির টিকিটের যিনি লড়াই করেছিলেন সেই মোহন হালদার তৃণমূলের কানাই চন্দ্র মন্ডল এর কাছে প্রায় ২৫ হাজার ভোটে হেরে যান।
এবং আশ্চর্যের বিষয় এই বিজেপির মোহন হালদার হেরে যাওয়ার তিন মাসের মধ্যে তিনি তৃণমূলের যোগদান করেন। তৃণমূলের জেলা সভাপতি খলিলুর রহমানের হাত থেকে তিনি পতাকা তুলে নিয়ে তৃণমূলের যোগদান করেন।
এই বিধানসভার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে শাসকদল ও বিরোধী দুই দলই।
যিনি সিপিএমের দুই বারের বিধায়ক ছিলেন সেই কানাই মন্ডল তৃণমূলে এসে তৃণমূলের বিধায়ক হয়ে গেলেন। তার বিপক্ষে যিনি লড়লেন মোহন হালদার বিজেপির হয়ে তিনিও বিধানসভা ভোটের তিন মাস পরে তৃণমূল হয়ে গেলেন।
এই কারণেই নবগ্রাম বিধানসভা মানুষের তৃণমূলের প্রতি ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পরে। কানাই চন্দ্র মন্ডল ১৫ বছরের এম এল। তার প্রতিও মানুষের চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে।
এখন ধরে নেওয়া যাক কানাই চন্দ্র মন্ডল কে ২০২৬সালে যদি তৃণমূল টিকিট দেয় তাহলে তার জয়টা খুব সহজেই আসবেনা। সে যতই এই বিধানসভায় মুসলমান ভোট বেশি হোক না কেন।
এবার এই বিধানসভায় কানাই বাবু যদি প্রার্থী হন তাহলে মুসলমান ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সে ক্ষেত্রে বিজেপি যদি একজন সুযোগ্য সৎ নিষ্ঠাবান যুবককে প্রার্থী করতে পারে তাহলে বিজেপি লড়াইতে চলে আসবে। জনমত সমীক্ষায় এই তথ্যই উঠে এসেছে। যদিও লড়াই টা খুবই কঠিন।
২০১১ সালে সিপিএমের কানাই চন্দ্র মন্ডল ভোট পেয়েছিলেন ৭৮হাজার ৭০৩ ভোট যা মোট পোলিং ভোটের ৪৯ শতাংশ। কংগ্রেসের প্রবাল সরকার ভোট পেয়েছিলেন ৭১ হাজার ১৪৭ ভোট যা মোট পোলিং ভোটে ৪৪ শতাংশ। আর বিজেপির দিলিপ হালদার পেয়েছিলেন ৪৪৮৯ ভোট।।
২০১৬ সালে সিপিএমের কানাই চন্দ্র মন্ডল পুনরায় ৯৯ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়েছিলেন। যা মোট পোলিং ভোটের ৫৫ শতাংশ। বিজেপির সুশান্ত-মার্জিত পেয়েছিলেন ১৩ হাজার ৮৪ ভোট।
২০২১ সালে কানাইচন্দ্র মন্ডল সিপিএম থেকে তৃণমূলের যোগদান করে পুনরায় তিনি এখান থেকে জয়ী হন। তিনি মোট এক লক্ষ ৪৫৫ ভোট পেয়েছিলেন। যা মোট পোলিং ভোটের ৪৮ শতাংশ। বিজেপির মোহন হালদার ৬৪ হাজার ৯২২ ভোট পেয়েছিলেন। যা মোট পোলিং ভোটের ৩১ শতাংশ। আর সি পি এম কৃপালিনী ঘোষ ৩৯ হাজার ১৩৯ ভোট পেয়েছিলেন। যা পোলিং ভোটের মোট ১৯ শতাংশ । ২০২১ সালে নবগ্রাম বিধানসভায় বিজেপির জয়ের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল সিপিএমের কৃপালিনী ঘোষ। এই বিধানসভা লড়াইটা হয়েছিল ত্রিমুখী। যদি দ্বিমুখি লড়াই হতো তাহলে বিজেপি লড়াইতে থাকতো।
এই বিধানসভায় মানুষের কাছে বোঝাতে হবে তৃণমূলকে হারাতে গেলে সবাই জোটবদ্ধ হয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে হবে সেক্ষেত্রে লড়াইটা তৃণমূলের সঙ্গে করা যাবে।
২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে লড়াই করে ৬৪ হাজার ভোট দখল করার পরে সেই মোহন হালদার তৃণমূলে চলে যাওয়ার পর এখানকার বিজেপি কর্মীদের মনে একটা ক্ষোভের জন্ম হয়েছে বিজেপি রাজ্য নেতৃতির উপর। তারাই চেয়েছিল এমন কাউকে প্রার্থী করা হোক যিনি সংঘ ঘনিষ্ঠ।
জনমত সমীক্ষায় বর্তমানে উঠে এসেছে বিজেপির মানিক সরকার এর নাম। তিনি এই বিধানসভায় বিজেপির পছন্দের এক নম্বর নেতৃত্ব। তিনি উত্তর মুর্শিদাবাদ জেলার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন জেলার দীর্ঘকালীন বিস্তারক ছিলেন। মুর্শিদাবাদ দমদম দক্ষিণ কলকাতা বিভিন্ন লোকসভার পূণ্যকালীন বিস্তারক ছিলেন। দিলিপ হালদার সুশান্ত মার্জিতের নাম শোনা গেলেও সকলের পছন্দের মানুষ হিসাবে মানিক সরকারের নাম উঠে আসছে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে এবার ২০২৬ এ কাকে প্রার্থী করে সেটাই কোটি টাকার প্রশ্ন।
0 coment rios: