Monday, 9 June 2025

294 টি আসন কে তিন ভাগে বিভক্ত করে নির্বাচনে ঝপিয়ে পড়া উচিত বিজেপির।

শুভকল্যাণ বিশ্বাস, দৃষ্টি বাংলা, কোলকাতা - সারাদেশের বিধানসভা নির্বাচনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন আকাশ মাতাল পার্থক্য থাকে সর্বদা। স্বাধীনতার পর থেকে যখন(১৯৫২) প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তখন থেকেই ব্যতিক্রমী ছিল বাংলা নির্বাচন। বাংলার নির্বাচনকে মানুষ উৎসবের বাতাবরণ মনে করেন। 
 এখানে ভোটের সময় কালকে উৎসবের সময়কাল মনে করা হয়। 
 ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এবং ভোট পরবর্তী হিংসায় বহু মানুষের প্রাণ গেছে। যেটা সারা দেশে এরকম ঘটনা বিরল। বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিমবাংলা নির্বাচন মানেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থেকেই যায়।

 শাসক দল তৃণমূলকে এবার নির্বাচনে হারাতে গেলে বিজেপিকে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত ভোটারকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করলে দেখা যাচ্ছে এক অভিনব চিত্র পাশাপাশি সমস্ত বিধানসভা(২৯৪) কেও তিনটি ভাগে বিভক্ত করলে দারুন তথ্য উঠে আসছে।
 পশ্চিমবঙ্গের এক তৃতীয়াংশ মুসলিম ভোটার বিজেপি পাবে না ধরে নিয়েই বিজেপি এগোতে হবে। সে ক্ষেত্রে যে সমস্ত বিধানসভা গুলিতে হিন্দু(৭০%) ভোটার বেশি এবং মুসলিম ভোটার(৩০%) কম  ভোটার সেইগুলো বিজেপিকে মার্কিং করতে হবে। ১৭০-১৮০ টি বিধানসভায় হিন্দু ভোটারের সংখ্যা বেশি। ৮০-৯০ টি বিধানসভায় মুসলিম ভোটারের সংখ্যা বেশি। ২০-২৫ টি বিধানসভায় প্রায় সমান সমান হিন্দু মুসলিম ভোটার। এইভাবে তিনটি ক্যাটাগরিতে  বিধানসভা গুলোকে ভাগ করে নিতে হবে। 
 যদিও শাসক এবং বিরোধীরা এই ভাবেই তারা রণকৌশল ঠিক করছে। কিন্তু কোথাও বিজেপির পরিসংখ্যানে কিছুটা ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
 বিজেপির সাংগঠনিক নির্বাচনে প্রচুর ত্রুটি সকলের সামনে ফুটে উঠেছে। যারা এবার সাংগঠনিক নির্বাচনের মন্ডল সভাপতি হয়েছেন তার বেশিরভাগ সিপিএম এবং তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আসা মানুষ। ২০১৯ সালের পর আসা কর্মী বা কার্যকর তাদের  বেশিরভাগ মন্ডল সভাপতি করা হয়েছে। যেটা সংগঠনের পক্ষে খুবই খারাপ নিদর্শন হয়ে উঠে আসছে। বিজেপির যারা পুরনো কার্যকর্তা তার বেশিরভাগই সংগঠনের বাইরে আছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ভার্সেস তৃণমূলের লড়াই চলছে। অর্থাৎ তৃণমূল থেকে আসা বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের লড়াই। প্রকৃত পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে লড়াই চলছে তৃণমূল ভার্সেস তৃণমূল ব্যানারটা শুধু বিজেপির। মাঝখান থেকে সিপিএম কংগ্রেস নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। ২০২১ সালে যে সমস্ত রাজ্য বিজেপির নেতৃত্ব ছিল তাদেরকে এখন দূরবীন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার কারণ লড়াইটা এখন আর তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির নেই। এখন চলছে নব্য বিজেপির সঙ্গে পুরাতন বিজেপির। আর এটা থেকে মজা নিচ্ছে শাসক দল তৃণমূল। এসএসসি কেলেঙ্কারি নিয়ে তৃণমূল যতটা ব্যাকফুটে ছিল তোর ৫০ শতাংশ সুবিধাও বিজেপি নিতে পারিনি তার সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে। 
 এই নিয়োগ কেলেঙ্কারিকে সামনে রেখে সিপিএম তাদের সাংগঠনিক শক্তি পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করছে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে। কিছু তরুণ নেতৃত্বকে সামনে নামিয়ে দিয়েছে সিপিএম এর সংগঠনকে মজবুত করার জন্য। তার সঙ্গে রয়েছে হাইকোর্টের কিছু উকিল যারা সিপিএমকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সংগঠন শক্তিশালী করার জন্য সাহায্য করছে। 
 এসএসসি  কেলেঙ্কারি ১০% সুবিধা ২০২১ সালে বিজেপি নিতে পারিনি তেমনি ২০২৬ সালেও নিয়োগ কেলেঙ্কারি সুবিধা ঘরে তুলতে পারবে না বিজেপি। তার একমাত্র কারণ সাংগঠনিক দূর্বলতা। রাজ্য নেতৃত্বের যে দ্বন্দ্ব সেটা মন্ডল স্তর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। রাজ্য থেকে মন্ডল স্তর পর্যন্ত সকলেই কোন না কোন লবির লোক। কিন্তু কেউ এরা বিজেপির লোক বলে নিজেদেরকে পরিচিতি দেয় না। 
 তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে গেলে প্রথমে যে কাজটা করতে হবে বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতাকে কাটিয়ে উঠতে হবে। নতুন পুরাতন সকলকেই সংগঠনের মধ্যে এনে সকলকে কাজে লাগাতে হবে। না হলে এই তোলা ফাঁকা সংগঠন দিয়ে বিজেপি তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে হারাতে পারবে না। 


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: