কিন্তু এই বিধানসভা কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কংগ্রেসের আবু হেনা ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পরপর ছয়বারের বিধায়ক ছিলেন।
আমাদের সমীক্ষা অনুযায়ী ২২.৬৪% হিন্দু ভোটার লালগোলা বিধানসভায়। তার মধ্যে হালদার পদবী ভোটার আছে ৪.৪৫%, দাস পদবী আছে ৪.২৩%, ঘোষ পদবী আছে ৩.৮৯%, মন্ডল পদবী আছে ৩.৫৬% বাদবাকি অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভোটার আছে এখানে।
লালগোলা বিধানসভায় সবচেয়ে হিন্দু ভোটারদের মধ্যে হালদার পদবী ভোটার সবচেয়ে বেশি।
এই বিধানসভা কংগ্রেসের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি পেলেও বর্তমানে তৃণমূল তাদের শক্তিশালী দুর্গে পরিণত করেছে লালগোলা বিধানসভা কে।
কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের সমীকরণ কি হবে সেটা এখন থেকে আন্দাজ করা না গেলেও, যদি সিপিএম কংগ্রেসের জোট হয় , SIR সঠিকভাবে এই বিধানসভায় প্রয়োগ করতে পারলে অনেক ভোটার বাদ যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে জোটের সঙ্গে ত্রিমুখি লড়াই হতে পারে। জোট - তৃণমূল- বিজেপি।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের আলী মোহাম্মদ ১ লক্ষ ৭৮৬০ ভোট পেয়েছিলেন। যেটা মোট পোলিং ভোটের ৫৭ শতাংশ।
কংগ্রেসের আবু হেনা ৪৭ হাজার ১৫৩ ভোট পেয়েছিলেন। যেটা মোট পোলিং ভোটের ২৫ শতাংশ।
বিজেপির কল্পনা ঘোষ তিনি পেয়েছিলেন ২৯ হাজার ৪৬৪ ভোট। যেটা মোট পোলিং ভোটের ১৫ শতাংশ। তিনি জেলা মহিলা মোর্চার সভানেত্রী ছিলেন।
এখানে বিজেপি ঠিকঠাক প্রার্থী নির্বাচন করতে পারলে বিজেপির ভোট শেয়ার অনেকটাই বেড়ে যেতে পারতো। ভুল প্রার্থী নির্বাচনের কারণে বিজেপি এখানে অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যায়।
বর্তমানে এই বিধানসভার ২৩৮ টি বুথের র মধ্যে বিজেপির ১০০ টি বুথেও শক্তিশালী সংগঠন নেই।
৩০ থেকে ৪০টি বুথে বিজেপির শক্তিশালী সংগঠন দেখা যায় এই বিধানসভায়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কালমেগা,বামনগাড়া,রামচন্দ্রপুর কার্তিকপুর,কৃষ্ণপুর, মধুপুর, পাহাড়পুর, রাধাকান্তপুর, কাটানগর, দক্ষিণ হনুমন্তনগর বিজেপি সংগঠন কিছুটা লক্ষ্য করা যায়।
শাসক দল তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন আলি মোহাম্মদ। তিনি যেহেতু গতবারের বিজয়ী প্রার্থী তাই তৃণমূল হয়তো তাকেই প্রার্থী করবেন। যদি তিনি নিজে প্রার্থী হতে না চান সে ক্ষেত্রে অন্য ব্যাপার। তবে সূত্রের খবর তিনিই প্রার্থী হচ্ছেন।
সিপিএম কংগ্রেসের জোট হলে প্রার্থীর দৌড়ে থাকবেন আবুহেনা হতেন। যদিও তিনি বেঁচে নেই।
বিজেপি প্রার্থী দৌড়ে দুই তিনজনের নাম শোনা যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে প্রার্থীর দৌড়ে প্রথমেই যে নামটি উঠে আসছে মন্ডল সভাপতি অজয় হালদারের নাম। তিনি পেশায় হাই স্কুলের একজন শিক্ষক। বর্তমানে তিনি মন্ডল সভাপতি আছেন।
তিনি বিজেপি পরিবার থেকেই উঠে এসেছেন। তাকে যদি দল প্রার্থী করে তিনি অনেকটাই এগিয়ে দেবেন দলকে। এছাড়া প্রার্থীদের রয়েছেন অমর দাস। তিনি জেলা সাধারণ সম্পাদক। গতবারের প্রার্থী কল্পনা ঘোষ তিনিও প্রার্থী দৌড়ে রয়েছেন। তবে বয়স জনিত কারণে হয়তো এবার প্রার্থী নাও হতে পারে তিনি। বা দল তাকে প্রার্থী নাও করতে পারেন।
জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ভোট হলে তৃণমূল ৬৫-৩৫% এগিয়ে থাকবে।
তবে বিধানসভা ভোট যত এভাবে তত তৃণমূল পিছিয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কংগ্রেস তাদের ঘর গোছাতে শুরু করেছে।
0 coment rios: