শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি যেভাবে সারা দেশের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না , কিন্তু এই বিধানসভার বিধায়ক ও মন্ত্রী মানিক বাবুর জেল যাত্রায় তার পরিবারের অনেক সদস্যই ছিলেন। সেটা খুবই নজিরবিহীন ঘটনা।
এসএসসি দুর্নীতি কান্ডে বাপ ছেলে উভয়যুক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। ২০২৬এ বিধানসভা নির্বাচনে এই বিধানসভায় তৃণমূলের প্রভাব পড়ে কিনা সেটাই দেখার।
কারণ এখানে মুসলিম ভোট ৪৯.২ শতাংশ, বাকি ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ হিন্দু ভোটার। হিন্দু মুসলিম সমান সমান ভোটার হওয়ার কারণে এই বিধানসভাতে তৃণমূল ২০২১ সালে জয়লাভ করেছিল অনেকটা এগিয়ে মার্জিন নিয়ে। কারণ মুসলিম ভোটের প্রায় ৯০% তৃণমূলের দখলে গিয়েছিল। তাইতো মানিকবাবু ২০২১ সালে ৫১ হাজার ৩৩৬ ভোটে জয়লাভ করেছিল বিজেপিকে হারিয়ে।
বিজেপির বিভাস চন্দ্র মন্ডল পেয়েছিল ৫৮৯৩৮ ভোট। যা মোট পোলিং ভোটের ২৯ শতাংশ।
সিপিএমের S M শাদি পেয়েছিলেন ২৬ হাজার ২২৮ ভোট।
এস এম শাদি ২০১১ সালে এখানের বিধায়ক ছিলেন।
জাত পাতের ভিত্তিতে এই বিধানসভায় ভোট শেয়ার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এখানে মুসলিম ভোটার ৪৯.২%।
বাকি হিন্দু ভোটারদের মধ্যে, সবচেয়ে বেশি মন্ডল পদবীর ভোটার সংখ্যা বেশি, ১৫. ৩%, তারপর দাস পদবির ১২. ৬%, তারপর ঘোষ -৮. ৭%, সরকার পদবির ৩. ৪৬%, তারপর বর্মন পদবির ৩. ৩৬%, রায় পদবির ভোটার ৩. ২ % বাদ বাকি অন্য পদবীর ভোটার আছে।
এখন দেখে নেয়া যাক জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী, জয়ের দিকে কোন দল কোথায় দাড়িয়ে - তৃণমূলের এখানে জয়ের সম্ভাবনা ৫৩ শতাংশ। বিজেপির এখানে জয় সম্ভাবনা ৪২ শতাংশ, বাদবাকি অন্যান্য দলের জয় সম্ভাবনা ৫%।
যদিও ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে এখান থেকে তৃণমূল ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল এবং বিজেপি পেয়েছিল ২৯ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করা যাবে না।
সারা ভারতে এস আই আর(SIR )লাগু হয়েছে।
এই বিধানসভায় SIR এর মাধ্যমে প্রচুর ভোটার বাদ যেতে পারে। কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ হাজার ভোটার এই বিধানসভায় বাদ পড়া সম্ভাবনা আছে। তাছাড়া মানিক বাবুর দুর্নীতি সমগ্র পৃথিবীর লোক জেনে গেছে। সেই কারণে এই বিধানসভায় তৃণমূল বিজেপির পার্থক্য খুব বেশি নেই। যদি বিজেপি ঠিকঠাক প্রার্থী নির্বাচন করতে পারলে তাহলে জোরদার লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা আছে এখানে।
আমাদের জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী যে তথ্য পাচ্ছি তাতে এবার বিজেপি তৃণমূল প্রার্থী নির্বাচনে অনেকটাই স্বচ্ছতা বজায় রাখবে।
তবে শাসক দল তৃণমূল হয়তো মানিক বাবুকে পুনরায় প্রার্থী করবে না এই বিধানসভা থেকে। সে ক্ষেত্রে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি দেবাশীষ বিশ্বাস কে প্রার্থী করা হতে পারে।
সিপিএমের এম শাদি পুনরায় প্রার্থী হবেন। সিপিএম কর্মীদের ৯০% এম শাদির নামকে সমর্থন করেছে এখানে।
বিজেপি প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে চার পাঁচ জনের নাম শোনা যাচ্ছে।
বিজেপি কর্মী এবং সমর্থকদের ৫৪ শতাংশ মানুষের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে নাম উঠে এসেছে সংগীতা ঘোষের। ২০২১ সালে তিনি বিজেপির প্রার্থী প্রায় হয়েই গিয়েছিলেন। কিন্তু কোন এক অজ্ঞাত কারণে শেষ মুহূর্তে তাকে প্রার্থী করা হয়নি। তবে তাকে সেই সময় প্রার্থী করা হলে ভোটের ফলাফল অন্যরকম হতে পারতো। সাধারণ মানুষের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা অনেকটাই বেশী অন্য সকলের থেকে।
এরপরে প্রার্থী হিসেবে নাম উঠে আসছে গতবারের প্রার্থী বিভাস চন্দ্র মন্ডল এর। তিনি বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের ২৯ শতাংশ পছন্দের মানুষ হিসাবে উঠে এসেছেন। তিনি ২০১৬ সাল থেকে এখানে বিজেপির প্রার্থী হয়ে আসছেন। কিন্তু তার শারীরিক অসুস্থতার কারনে তাকে এবার দল প্রার্থী নাও করতে পারে।
এবারে প্রার্থী হিসেবে নাম উঠে আসছে জেলা সভাপতি অর্জুন কুমার বিশ্বাসের। তিনি ২০১১ সালে এই বিধানসভা থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে মাত্র ৮১৪৫ ভোট পেয়েছিলেন। তিনি এই বিধানসভা থেকে বিজেপির কর্মী ও সমর্থকদের ১১ শতাংশ ভোট পেয়েছে মাত্র। তিনি বর্তমানে জেলার সভাপতি আছেন। কিন্তু তিনি জেলা কমিটির গঠনের পর অনেকটাই তার জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। তার জেলা কমিটি অনেকটাই ফ্যামিলি প্যাকেজ এর আকার ধারণ করেছিল। একটা সঙ্গে একটা ফ্রি যেভাবে দেওয়া হয় মাল সেই ভাবেই কমিটি গঠন করেছিলেন তিনি। এটা নিয়ে তাকে প্রচুর সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে। তবে দল তাকে এখান থেকে প্রাথী করবে কিনা সেটাই দেখার। তবে তিনি তেহট্ট বিধানসভাতে নজর দিয়ে রেখেছেন প্রার্থী হওয়ার জন্য।
এরপরে প্রার্থী হওয়া দৌড়ে যে নামটি উঠে আসছেন তিনি হল অনিমা দত্ত। মাত্র ৬ শতাংশ কর্মীর সমর্থকরা তার নাম প্রার্থী হিসেবে চাইছেন। তিনি জেলা সভাপতির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
এখন দেখার বিষয় বিজেপি দল কাকে প্রার্থী করে এখান থেকে।
তবে সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করতে পারলে এই বিধানসভা থেকে বিজেপি তৃণমূলকে কঠিন লড়াইতে ফেলে দিতে পারে মানিক ভট্টাচার্যের দুর্নীতির কারণে।
0 coment rios: