২০২৬-এ বিধানসভা নির্বাচন শাসক বিরোধী দুই দলের কাছেই মরণ বাঁচার লড়াই। শাসক চাইছে পুনরায় ক্ষমতা দখল করতে, বিরোধী বিজেপি চাইছে তৃণমূল মুক্ত বাংলা করতে।
কিন্তু এই লড়াই যে সারা দেশ উপভোগ করবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। কল্যাণী বিধানসভায় উপভোগ্য লড়াই হতে যাচ্ছে।
২০২১ এর বিধানসভা ভোটের পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কল্যাণী বিধানসভায় অম্বিকা রায় মাত্র ২২০৬ ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। জয়ের ব্যবধান ছিল তৃণমূলের সঙ্গে মাত্র এক শতাংশ।
তৃণমূলের অনিরুদ্ধ বিশ্বাস পেয়েছিলেন ৯৪৮২০ ভোট। যেটা মোট পোলিং ভোটের ৪৩ শতাংশ।
আর বিজেপির অম্বিকা রায় পেয়েছিল ৯৭০২৬ ভোট। যেটা কিনা মোট পোলিং ভোটের ৪৪ শতাংশ। সিপিএম -এর সবুজ দাস পেয়েছিলেন ২২১৬৫ ভোট।
২০২৪ এ লোকসভা ভোটে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১ লক্ষ ৪হাজার ৬৮০ ভোট পেয়েছিল বিজেপি,আর তৃণমূল পেয়েছিল ৯৪হাজার ২৫৮ ভোট। লোকসভা ভোটে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের পার্থক্য ছিল পাঁচ শতাংশ ভোটের।
২৮২ বুথ বিশিষ্ট কল্যাণী বিধানসভায় ১৫৯ টি পোলিং স্টেশন আছে। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭১৯। বর্তমানে কিছু ভোট এবং পোলিং বুথ বেড়েছে।
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখান থেকে তৃণমূল জয়লাভ করেছিল। ডক্টর রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাস ৯৫ হাজার ৭৯৫ ভোট পেয়েছিলেন। সিপিএমের অলকেশ দাস ৬৯ হাজার ৭০০ ভোট পেয়েছিলেন। বিজেপির ডক্টর রঞ্জিত বিশ্বাস পেয়েছিলেন ১৫৭১০ ভোট।
কিন্তু এইসব পরিসংখ্যান দিয়ে এবার কিন্তু ভোটের ময়দানে লড়াই করা যাবেনা। এবার এখানে জিততে গেলে,,যদি,কিন্তু,অথবা,বিভিন্ন বিষয়ের উপরের নজর দিতে হবে দুই দলকেই।কল্যাণী বিধানসভায় ভোট অনেক কঠিন লড়াই হতে যাচ্ছে শাসক বিরোধী দুই দলের কাছেই। ঠিকঠাক প্রার্থী নির্বাচন না করতে বলে সেই দলের পরাজয় নিশ্চিত।
আমাদের জনমত সমীক্ষায় যে তথ্য উঠে এসেছে, সেটা খুবই ভয়ঙ্কর। তৃণমূল কর্মীর সমর্থকরা চাইছে, বিজেপির যিনি এমএলএ আছেন তিনি পুনরায় এখান থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক।
কিন্তু বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বেশিরভাগ অংশই চাইছে না অম্বিকা রায় এখান থেকে প্রার্থী হোক।
এই মুহূর্তে বিধানসভায় ভোট হলে পরাজয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে। ৫১-৪৯ শতাংশে এগিয়ে আছে তৃণমূল।
তৃণমূলের অনিরুদ্ধ বিশ্বাসকে প্রার্থী করা হলে তিনি জয়লাভ করতে পারেন। যদি কিনা বিজেপির অম্বিকা রায় প্রার্থী হয় তাহলেই তৃণমূল এখানে জয়লাভ করবে বলে তারা আশা রাখছে।
কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে তৃণমূল বিরোধী হাওয়া চলছে, সেই সঙ্গে SIR ও CAA ইস্যু কে বিজেপি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ভোটের ফলাফল আগের তুলনায় ভালো হতে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে প্রার্থীবদল অবশ্যই প্রয়োজন।
আমাদের জনমত সমীক্ষা উঠে এসেছে, ১০৪৭৮জন মানুষের মতামতের ভিত্তিতে, ১৫৫ টি দোকানদার, ১৭০ টি অটোচালক, ২১২টি টোটো চালক, প্রায় ২০০ জনের উপরে শাসক বিরোধী দলের কার্যকর্তাদের মতামতের ভিত্তিতে।
তৃণমূলের প্রার্থী হওয়া দৌড়ে সবচেয়ে উপরের শাড়িতে থাকছেন অনিরুদ্ধ বিশ্বাস। প্রায় ৬৫ শতাংশ তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা তাকে প্রার্থী হিসেবে চাইছেন। এছাড়া আর একজন যুব নেতার নাম শোনা যাচ্ছে, তিনিও দৌড়ে রয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
বিজেপির প্রার্থী হওয়া দৌড়ে রয়েছেন সবার উপরের দিকে ডক্টর রঞ্জিত বিশ্বাসের নাম। পেশাগত দিক থেকে তিনি বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ডিন। ২০১৬ সালে এই বিধানসভা থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন রঞ্জিতবাবু। তিনি বর্তমানে বনগাঁ জেলার বুদ্ধিজীবী সেলের কনভেনার। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় তিনি অত্যন্ত শান্তনু ঠাকুর ঘনিষ্ঠ একজন নেতৃত্ব। মতুয়া দলপতিদের সঙ্গে তার ওঠাবসা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিজেপির প্রায় ৪৬ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা তাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন।
এরপরেই প্রার্থী দৌড়ে আছেন বর্তমান বিধায়ক অম্বিকা রায়ের নাম। তিনি সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট। তিনি উদ্বাস্তু আন্দোলনের নেতা সুবোধ বিশ্বাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি কর্মীদের সঙ্গে সেভাবে জনসংযোগ রাখে না বলে কর্মীরা অভিযোগ করেছেন। প্রায় ৪৩ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা তাকে পুনরায় এখান থেকে প্রার্থী হিসেবে চাইছেন। বাকি ১১ শতাংশ মানুষ অন্যান্য প্রার্থী হিসেবে দুই একজনকে চাইছেন।
কিন্তু বনগাঁ লোকসভায় বিজেপির যে চারজন বিধায়ক আছেন তাদের নিজের নিজের বিধানসভায় অনেকটা জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। কিন্তু তৃণমূল তার থেকে বেশি জনপ্রিয়তা হারিয়েছে সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী CAA এপ্লিকেশনের সময় সীমা ১০ বছর বাড়িয়ে দিয়েছেন। ২০১৪ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর এর মধ্যে যারা ভারতে প্রবেশ করেছে, তারা প্রত্যেকেই CAA এর আবেদন করতে পারবে। আর এটার কারণেই কল্যাণী বিধানসভা বিজেপি অ্যাডভান্টেজ পেয়ে গেছে। তার কারণ এই বিধানসভায় ৩৫% মতুয়া ভোট বসবাস করে। যার সিংহভাগটাই বিজেপির দখলে যায়।
এখন দেখার বিষয় বিজেপি কাকে প্রার্থী করে।
0 coment rios: