তৃণমূলের মহুয়া মিত্র পেয়েছিলেন ৪৪.১০ শতাংশ ভোট। আর বিজেপির অমৃত রায় পেয়েছিলেন ৪০.১৩ শতাংশ ভোট।
তৃণমূলের মহুয়া মিত্রের প্রাপ্ত ভোটার সংখ্যা ছিল ৬ লক্ষ ২৮ হাজার ৭৮৯ ভোট।
আর বিজেপির অমৃতা রায়ের প্রাপ্ত ভোটার সংখ্যা ছিল ৫ লক্ষ ৭২ হাজার ৮৪ ভোট। উল্লেখ থাকে সেদিন
সাংগঠনিক দূর্বলতার কারণে বিজেপির অমৃতারায় পিছিয়ে পড়েছিলেন। প্রত্যেকটি গণনা কেন্দ্রে বিজেপির লোক না থাকায় সাংগঠনিক দুর্বলতা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল তৃণমূল। তাছাড়া দলের ভিতরে কিছু নেতৃত্বের অসহযোগিতা রানী মা অমৃতা রায় কে পরাজয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। কিন্তু এই নির্বাচন তাকে অনেকটাই অভিজ্ঞতা দিয়েছে। তিনি রাজনীতির লোক না হলেও তিনি একজন রাজ পরিবারের রানীমা । রাজ্য পরিচালনা যার রক্তে বইছে তাকে রাজনীতি শেখানোর প্রয়োজন নেই।
কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার অন্তর্গত। এই বিধানসভা থেকে গত একুশের নির্বাচনে মুকুল রায় জয়লাভ করেছিলেন। তারপরে তিনি তৃণমূলে যোগদান করেন। কিন্তু এই যোগদানে কারনে না লাভ হয়েছে তৃণমূলের না ক্ষতি হয়েছে বিজেপির। বর্তমানে মুকুল রায় শারীরিক অসুস্থতার কারণে গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন।
লোকসভা এবং বিধানসভার নিরিকে এই আসনটি বিজেপি এগিয়ে আছে অনেকটাই তৃণমূলের থেকে। এখানে প্রার্থী হওয়ার জন্য অনেকেই দৌড়াদৌড়ি শুরু করেছেন।
কিন্তু আমাদের জনমত সমীক্ষায় যে তথ্য উঠে এসেছে, সেখানে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার সাধারণ মানুষ চাইছে স্থানীয় কাউকে ভোটে দাঁড় করানো হোক। তার কারণ বাইরের কাউকে প্রার্থী করা হলে স্থানীয় মানুষের উপকারে খুবই কম আসে বিধায়করা। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়।
জনমত সমীক্ষায়, ১৬৪৫০ মানুষ সাধারণ মানুষ, ২৮০ টা দোকানদার, ৩৩০ টোটো চালক, ২৫৫ টি অটোচালক, প্রায় সাড়ে ৫০০র উপর দলীয় কর্মী সমর্থকদের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে সবার উপরেই থাকছেন -
১) রানীমা অমৃতা রায়ের নাম। প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ ও কর্মী সমর্থকরা চাইছেন তিনি এবার কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা থেকে প্রার্থী হন। কিন্তু যেহেতু তিনি লোকসভার প্রার্থী ছিলেন, সেহেতু তিনি বিধানসভা ভোটে লড়বেন কিনা সেটা এখনো দলীয় সূত্রে জানা যায়নি।
তবে রানীমা , অমৃতা রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, আমি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করব না। তবে আমি এইটুকু বলতে পারি, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দল বিজেপি। সেই দল আমাকে লোকসভা ভোটে টিকিট দিয়েছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য। আমি আমার যথাসাধ্য ক্ষমতা দিয়ে লড়াই করার চেষ্টা করেছি। আমি নিজে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার বাসিন্দা । আমার পরিবারের সমস্ত মানুষের নাড়ির টান রয়েছে কৃষ্ণনগরের মাটির সঙ্গে, এখানকার প্রত্যেকটা মানুষ আমাদের হৃদয়ের অন্তরের স্থলে থাকেন।
তবে দল যদি আমাকে এখান থেকে ভোটে লড়াই করার জন্য উৎসাহিত করেন তাহলে বিষয়টি আমি ভেবে দেখব। বিগত লোকসভা নির্বাচনের যে অভিজ্ঞতা আমি সঞ্চয় করেছি, সেই অভিজ্ঞতা দিয়ে আমি আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দলকে আমি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। এখন দল কি সিদ্ধান্ত নেয় সেটা দলের ব্যাপার।
তবে আমার ব্যক্তিগত মতামত কিছু নেই। কিন্তু আপনাদের মুখ থেকেই শুনছি, কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা সাধারণ মানুষ আমাকে নির্বাচনে লড়াই করার জন্য আহ্বান করছেন। আমি এর বেশি কিছু বলতে পারব না।
২) সমীক্ষায় প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এরপরেই নাম উঠে আসছে মহাদেব সরকারে। প্রায় ২৪ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা তাকে এখান থেকে প্রার্থী হিসেবে চাইছে। তিনি এর আগেও প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি রাজ্য বিজেপি কিষান মোর্চার সভাপতি ছিলেন। মহাদেব সরকারের সঙ্গে আমাদের প্রতিনিধিরা যোগাযোগ করতে পারেনি।
৩) এরপরেই নাম উঠে আসছে চঞ্চল বিশ্বাসের। প্রায় ৯ শতাংশ সাধারণ কর্মী সমর্থকরা তাকে এখান থেকে প্রার্থী হিসেবে চাইছেন। তিনি রাজ্য বিজেপির সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি হয়তো কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। আমাদের প্রতিনিধিরা তার সাথে যোগাযোগ করে উঠতে পারেনি।
তবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কিন্তু খুব সহজে ছেড়ে দেবে না বিজেপি কে। তারা তাদের রণকৌশল ঠিক করেছে। স্থানীয় কাউকে এখানে প্রার্থী করার জন্য তারা ব্লু প্রিন্ট তৈরি করে ফেলেছে ইতিমধ্যে। তবে তৃণমূল সূত্রের খবর কোন সেলিব্রেটিকে এখানে আর প্রার্থী করবে না। ভূমিপুত্র বা ভূমি কন্যা কেই তারা এখানে প্রার্থী করবে।
0 coment rios: