Friday, 19 February 2021

কালিগঞ্জ বিধানসভায় তৃণমূল বিজেপির সামনাসামনি লড়াই হতে চলেছে 2021শে বিধানসভায়. কারা আছেন প্রার্থীর দৌড়ে.

নিজস্ব প্রতিনিধি, দৃষ্টি বাংলা, কালিগঞ্জ-
 রাজনৈতিক চাপানউতোর পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত বিধানসভা জুড়ে শুরু হয়েছে. কালিগঞ্জ বিধানসভা তার থেকে বাদ যায়নি. গত লোকসভা ভোট থেকেই তৃণমূূল-বিজেপি সামনাসামনি লড়াই শুরু হয়েছে.

2019লোকসভা ভোটে তৃণমূল এখানে পেয়েছিল 99 হাজার 839 ভোট, বিজেপি পেয়েছিল 62 হাজার 611 ভোট, কংগ্রেস পেয়েছিল 18 হাজার 932 ভোট, সিপিএম পেয়েছিল 6 হাজার 492 ভোট.
 গত লোকসভা ভোট থেকেই বিজেপি এখানে তাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করে তুলেছে. তাইতো তৃণমূল এবার এই বিধানসভা খুব সহজে জিততে পারবে বলে মনে হয় না. শক্ত চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হতে পারে বিজেপির সঙ্গে.
কালিগঞ্জ বিধানসভায় 13 টি অঞ্চল এবং 257 বুথ নিয়ে গঠিত. 2011 সেন্সাস অনুযায়ী এখানকার জনসংখ্যা 3 লক্ষ 34 হাজার 881 জন.  যার মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করেন 3 লক্ষ 6 হাজার 197 জন মানুষ এবং আরবান এলাকায় বসবাস করেন 28 হাজার 684 জন. এই জনসংখ্যার 51 শতাংশ পুরুষ 49 শতাংশ মহিলা.
 1 লক্ষ 71 হাজার 912 জন পুরুষ ও 1লক্ষ 62হাজার 564 জন মহিলা আছেন এই বিধানসভাতে.
2016 বিধানসভা নির্বাচনে এখান থেকে কংগ্রেসের হাসানুজ্জামান নির্বাচিত হয়েছিলেন. তিনি পেয়েছিলেন 85 হাজার 125 ভোট. তৃণমূলের  নাসিরউদ্দিন আহমেদ পেয়েছিল 83 হাজার 898 ভোট. বিজেপির সৈকত সরকার পেয়েছিলেন 10 হাজার 373 ভোট. গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এখানে তৃতীয় স্থানে ছিল. কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এখানে দ্বিতীয় স্থান দখল করে. আগামী 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি তৃণমূল সামনাসামনি লড়াই হতে পারে. 
 এখন দেখার বিষয় তৃণমূল এখান থেকে কাকে প্রার্থী করে. তবে নাসির উদ্দিন আহমেদকে পুনরায় প্রার্থী করতে পারে তৃণমূল. এও শোনা যাচ্ছে নতুন কাউকে প্রার্থী করতে পারি এখান থেকে তৃণমূল.
জোটের প্রার্থী হাসানুজ্জামান হলেও হতে পারেন. তবে তিনি বেলডাঙা বাসিন্দা হওয়ার কারণে এবার এখান থেকে প্রার্থী নাও হতে পারেন.
 বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে যারা রয়েছেন তারা হলেন
1)নদীয়া জেলার প্রাক্তন মন্ডল সভাপতি কল্যাণ রায় প্রথমেই প্রার্থীর দৌড়ে রয়েছেন. বর্তমানে তিনি জেলা সদস্য.
2) এরপরে প্রার্থীর দৌড়ে রয়েছেন অনুপ কুমার মন্ডল. তিনি তপশিলি মোর্চার নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি. তিনি এই বিধানসভা ভোটার নয় তবুও এই বিধানসভা থেকে প্রার্থীর দৌড়ে তার নাম জনমত সমীক্ষায় উঠে আসছে.
3) এরপরেই নাম উঠে আসে সৈকত সরকারের. তিনি বর্তমানে নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার যুব সভাপতি. এর আগে 2016 সালে তিনি বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন. ভোট পেয়েছিলেন 10 হাজারের কিছু বেশি.
4) এরপরই প্রার্থীর দৌড়ে রয়েছেন মৌসুমী ভট্টাচার্য. জনমত সমীক্ষায় তার নামটাও প্রার্থীর দৌড়ে উঠে এসেছে. তিনি বর্তমানে নদীয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার মহিলা মোর্চা সহ সভানেত্রী.
5) একজন মুসলিম প্রার্থীর নামও  শোনা যাচ্ছে বিজেপির তরফ থেকে. তবে এখানকার জনমত সমীক্ষায় উঠে আসছে - বিজেপিকে  সমর্থনকারী সাধারণ মানুষ চাইছে এখান থেকে প্রার্থী করা হোক কোন হিন্দু মানুষকে.  যদিও এই বিধানসভায় সংখ্যালঘু ভোটার জয়ের একটি ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে. এখন দেখার বিষয় বিজেপি এখানে কাকে প্রার্থী করে.
 এই বিধানসভায় আগামী নির্বাচন 2 দলের পক্ষে কঠিন লড়াই হতে পারে. লোকসভা ভোটে বিজেপির  যেরকম সংগঠন ছিল তার তুলনায় বর্তমানে বিজেপি সংগঠন এখন শক্তিশালী কালীগঞ্জে.

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: