ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী বলা যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গাড়ির দরজা খুলে রাস্তার দু'পাশ দিয়ে সাধারন মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করার চেষ্টা করছিলেন. সেই সময় মানুষের ভিড়ের মধ্যে রাস্তার পাশে থাকা লোহার খাম্বায় গাড়ির দরজা ধাক্কা লাগে সেই ধাক্কায় মমতা বন্দোপাধ্যায় বুকে পায়ে মাথায় আঘাত পান. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ির ড্রাইভার বুঝতেই পারেননি ওই লোকজনের মধ্যেও খাম্বা থাকতে পারে. লোকজন সরে যেতেই খাম্বার সঙ্গে দরজার সজোরে ধাক্কা লাগে. যদিও গাড়িটি ধীরে চলছিল. গাড়ি জোরে চললে আরো বড় ধরনের বিপত্তি ঘটতে পারত. এটা প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়.
রাজ্য তপশিলি মোর্চার সভাপতি ও বাগদা বিধানসভার বিধায়ক তথা একসময়কার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত দুলাল চন্দ্র বর এই দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, প্রত্যেকটি দুর্ঘটনাই দুঃখজনক. সেই দুর্ঘটনা যেভাবেই ঘটুক না কেন পীড়িত ব্যক্তির কষ্টের ভাগ কেউ নেন না. আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত সুস্থতা কামনা করি . কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দুর্ঘটনা কে সামনে রেখে যে নোংরা রাজনীতি করছেন সেটা বাংলার মানুষ কখনো মেনে নেবে না. উনি নন্দীগ্রামের মানুষ তথা সারা বাংলার মানুষের কাছ থেকে সহানুভূতি আদায় করতে চাইছেন. উনি যদি শুধু দুর্ঘটনার কথাটা বলতেন বিজেপির উপরে দোষ না চাপিয়ে তাহলেও কিছু মানুষ ওনাকে সহানুভূতি দেখাতেন.
উনি বলছেন পুলিশ কাছে ছিল না. কিন্তু আমার প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর নিজে Z + ক্যাটাগরির নিরাপত্তা ভোগ করেন. ঘটনার দিন দুজন আইপিএস অফিসার ছিল তার সঙ্গে. তারা সেদিন কি করছিল. মুখ্যমন্ত্রী যখন কোন সফরে যান তখন তার সঙ্গে মেডিকেল টিমও থাকে. সেই মেডিকেল টিমই বা কি করছিল. সঙ্গে নিজস্ব ক্যামেরাম্যান ও থাকে তাদের কাছ থেকে ভিডিও ফুটেজ দেখতে চাইছি আমরা তথা বাংলার মানুষ.আরেকটা কথা
পায়ে যন্ত্রণা নিয়ে তিনি অতদূর থেকে কলকাতা এলেন. সেখানে কি কোন হাসপাতাল ছিল না . থাকলেও কি সেখানে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ঠিক নেই .এখানেও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর গাফিলতি কাজ করছে.
আমি মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনার জন্য পুলিশ মন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি.
আরেকটি কথা আমার মনে পড়ছে. মুখ্যমন্ত্রী খুব ভালো অভিনেত্রী. আমরা জানি সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় মুখ্যমন্ত্রী 26 দিন অনশন করেছিলেন. মুখ্যমন্ত্রী যখন অনশন ভাঙলেন. তখন দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী এক কেজির উপরে ওজন বেড়ে গেছে. 26 দিন না খেয়ে থাকার উপর কি করে একজন মানুষের ওজন বৃদ্ধি পায়. সেটাই আমার প্রশ্ন ছিল তখন .সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর নাটক বাংলার মানুষ বুঝতে পারেনি. এবার মুখ্যমন্ত্রী যতই নাটক করুক না কেন বাংলার মানুষ সেই মা-মাটি- মানুষ এই নাটক আর দেখবে না. সহানুভূতি আদায়ের যে অপচেষ্টা তিনি করছেন সেটা কখনো সফল হবে না. নাটক শুরু হয়েছিল এখানে শেষও হবে এখানে.
অপরদিকে কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, এই সব নাটক করে আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না. বাংলার মানুষ আপনার চালাকি বুঝে গেছে.
0 coment rios: