দৃষ্টি বাংলা, শুভ কল্যান বিশ্বাস - প্রায় সমস্ত মিডিয়া যে ভাবে যোগ্য -অযোগ্য শব্দটি কি ব্যবহার করছে শিক্ষক শিক্ষকর্মীদের বিরুদ্ধে এটা তাদের কাছে খুবই লজ্জার এবং সম্মানহানির ব্যাপার। টাকার বিনিময়ে চাকরি হয়েছে সর্বজনে জানে। যারা যোগ্য হয়েও চাকরি পায়নি তাদেরকে অনেক কষ্ট সহ্য করে ধর্ণায় বসতে হয়েছে হাজারের উপরে দিন। তাদেরতো কোন দোষ ছিল না। আজকে তাদের কি অবস্থা হলো কেউ বুঝতে পারছে না। সবাই এটা নিয়ে রাজনীতি করছে। কেউ সমাধান চাইছে না।
কিছু বামপন্থী মনোভাবাপন্ন উকিল, দিনের পর দিন ধর্ণায় বসে থাকা হবু চাকরি প্রাথীদের আশা দেখিয়ে ছিলো, সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে হাইকোর্ট। যে সমস্ত উকিল বাবুরা চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ভরসা দিয়েছিলেন, আবার সেই সমস্ত উকিল বাবুরা ডিভিশন বেঞ্চে পুরো প্যানেল বাতিল করার দাবী জানিয়েছেন। তাই মহামান্য হাই কোর্ট পুরো প্যানেল বাতিল করেছেন নিরুপায় হয়ে। CBI, SSC, রাজ্য সরকার কেউ সেভাবে সাহায্য করেনি কোর্টকে। কোর্ট বাধ্য হয়েই এই রায় দিয়েছে। আর ধর্ণা মঞ্চে সকলেই যে যোগ্য ছিলো সেটা নয়। স্বয়ং প্রাক্তন বিচারপতি গাঙ্গুলী বিচারপতি থাকাকালীন বলেছিলেন ধর্ণা মঞ্চের সবাই ঠিক নয়। এখন প্রশ্ন যোগ্য -অযোগ্য শব্দটা ব্যবহার নিয়ে। কারণ অযোগ্য যে বলা হচ্ছে সেটা কিসের উপর ভিত্তি করে। OMR ম্যানুপুলেশন এর অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু সেটা তো প্রমাণিত হয়নি। তাহলে তাদের কি অযোগ্য বলা যেতে পারে। বরং বলা যেতে পারে বিতর্কিত চাকরি প্রাথী।
সুপ্রিম কোর্টে যে প্যারামিটার বেঁধে দিয়েছিল সেই অনুযায়ী ডিভিশন বেঞ্চ 65B প্রমাণ করতে পারেনি। প্রমাণ করতে পারেনি বলেই ম্যানিপুলেশন ক্যান্ডিডেট দের শুধু মাত্র বাদ দিতে পারেনি।
সুপ্রিম কোর্টের 9 নভেম্বর এর রায় টা পড়লে বিষয়টা আরো পরিষ্কার হয়ে যাবে। যেখানে সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার ভাবে লিখে দিয়েছে যে edmissiblity প্রমাণ করতে হবে 65B কে দিয়ে with Cognet Evidence(অকাট্য প্রমাণ)।
কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চ চালাকির সাথে এই 65B কে পাশ কাটিয়ে গেলেন সেকশন 58 এবং সেকশন 3 দিয়ে। এই 58 এর মোদ্দা কথা টি হলো - " বিচারপতি কোনো মামলায় যা খুশি মত দিতেই পারেন যদি তিনি মনে করেন "।
আর সেকশন 3 হলো -' বিচারপতি যেকোনো ডকুমেন্ট কে ইচ্ছে অনুযায়ী মামলায় প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন যদি তিনি মনে করেন".
এই সব ব্রিটিশ আমলের আইন দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের গাইড লাইন এড়িয়ে গেলেন। সুপ্রিম কোর্ট এটা ঠিক ভাবে নেবে কিনা সময় বলবে।
খ. এবারে উকিলের আসল কথায় আসি, ওনার বক্তব্য :
যদি এখানে ফ্রেশার রা সিবিআই এর দেয়া omr কে নিজের বলে দাবি করলো নিজের চাকরি বাঁচাতে।
উল্টো দিকে মানিপুলেটেড ক্যান্ডিডেট omr কে নিজের বলে মানলো না এবং 65B সার্টিফিকেট দিয়ে প্রমাণ করতে বলল।
তখন সিবিআই যদি প্রপার 65B সার্টিফিকেট না দিতে পারে ( যার সম্ভাবনা খুব বেশি কারণ অরিজিনাল নেই এমন কি সার্টিফায়েড কপিও নেই) , তখন ফ্রেসার দের কী অবস্থা হবে ভেবে দেখতে হবে।
তখন waiting সহ নানান পক্ষ এই প্রশ্ন তুলবে যে আন অথেনটিক omr শিট কে যখন নিজের বলে দাবি করেছো তখন তোমার চাকরি টা অথেনটিক ?
সিবিআই যে সার্টিফিকেট দিয়েছে সেটা 65B ফুলফিল করেনি
0 coment rios: