বর্তমান সময়ে যে প্রশ্ন গুলি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে সেগুলি হল , বাংলাদেশের তাহলে হিন্দুরা কি অবাঞ্চিত, না বাংলাদেশের বোঝা, এই উত্তর খুঁজে চলেছে প্রত্যেকটি বাংলাদেশী হিন্দু। নতুন অস্থায়ী সরকারের কাছ থেকে তারা বিচারের আশায় দিন গুনছে। রাষ্ট্রসংঘ হিন্দুদের উপর আক্রমণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। যদিও এই প্রতিবাদের ফলস্বরূপ হিন্দুদের কোন সুরাহা হবে সেই আশা কোন হিন্দু পরিবার করছে না বাংলাদেশের বর্তমান সময়ে।
প্রশ্ন-১/ হিন্দুরা বিগত.... বছর যাবৎ প্রতিবাদ করেনি এখন কেন করছছে?
উত্তরঃ- আপনারা ২০২১ এর রক্তাক্ত শারদ নিয়ে অবগত রয়েছেন, কি ভয়ানক একটি বছর ছিলো সনাতনীদের জন্য তখনো প্রতিবাদ হয়েছিল, মূল হোতা বের হয়ে এসেছিলো, কিন্তু উপযুক্ত বিচার আমরা পাই নি,এবং আপনারা জানেন যে প্রতি বছর আমরা পূজা উৎযাপন করি মূর্তি ভাঙার মধ্যে দিয়ে। বর্তমানে হিন্দুদের উপর ৫ আগষ্ট ২০২৪ থেকে যে ধারাবাহিক হামলা, নির্যাতন হয়েছে আমরা তার বিচার চাচ্ছি। বিগত বছরগুলোতেও অনেক অন্যায়ের বিচার চেয়েছিলাম। পাইনি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে প্রতিবাদের শব্দ জোরালো হয় বটে, তবে আশা রাখছি নতুন সংবিধানে সঠিক বিচার পাবো।
প্রশ্ন-২/ অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সবার বাড়িতে রাজনৈতিক হামলা হয়েছে তাহলে শুধু হিন্দুরা কেন বিচার চাচ্ছে ❓
উত্তরঃ- ধর্মীয় উপাসনালয় (মন্দির) নিশ্চয়ই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে পারে না। প্রতিমা, মন্দির, ঘর বাড়ি তো রাজনীতি করে না!বিচার যে কেউ চাইতে পারে। অন্যদের যদি মনেহয় অন্যায় হয়েছে তারাও বিচার চাইতে পারে।
তাছাড়া প্রত্যেকের ঘরে নারী, শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ মানুষ থাকে। যে ধর্মেরই হোক শুধুমাত্র দোষীদের আইনের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হোক। তার পরিবারকে হেনস্তা করা অন্যায়।
প্রশ্ন-৩ঃ- আপনার বাড়িতে বা আপনার শহরে হামলা হয়নি তাহলে আপনারা কেন বিচার চাচ্ছেন❓
উত্তরঃ- দেশের যে প্রান্তেই হিন্দু নির্যাতিত হোক সে আমার সম্প্রদায়ের মানুষ। আমি অবশ্যই একজন প্রকৃত সনাতনী হিসেবে তার জন্য ব্যথিত হবো।
পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে আমার উপাসনালয় পুড়লে, প্রতিমা ভাঙ্গা হলে আমি ব্যথিত হবো,নির্যাতিত মানুষের জন্য আমি তো বিচার চাইতেই পারি।এবং একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে যে কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করা মানুষের ধর্ম বলে আমি মনে করি।
প্রশ্ন-৪ঃ- ভারত এই আন্দোলনকে নিয়ে রাজনীতি করছে। সারাবিশ্বে ভুল মেসেজ যাচ্ছে না কি❓
উত্তরঃ- বর্তমান সরকার এই হামলার ন্যায় বিচার করে ভারতকে মুখের উপর জবাব দিক। আমরা কারো রাজনীতির শিকার হতে চাই না,বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের সংবিধান প্রশংসিত হোক এটাই আমরা চাই।।
প্রশ্ন-৫ঃ- মন্দির তো পাহাড়া দিচ্ছে মুসলিমরা তাহলে আন্দোলন কেন❓
উত্তরঃ- আমার মুসলিম ভাইদের প্রতি আমি অশেষ কৃতজ্ঞ। কিন্তু আপনাদের যেন আর কষ্ট করে রাত জেগে পাহাড়া দিতে না হয় তাই ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি৷ আপনারাও এগিয়ে আসুন।
প্রশ্ন-৬ঃ- হিন্দুরা কি মুসলিমদের প্রতিপক্ষ ভাবছে❓
উত্তরঃ- বাংলাদেশে এই চিন্তা অবাঞ্চিত। এখানে হিন্দু-মুসলমান একই দেহের দুই অঙ্গ।
আমরা সন্ত্রাসীদের বিচার চাই। আর সন্ত্রাসীদের কোন ধর্ম হয় না।
প্রশ্ন-৭ঃ- হিন্দুদের এই প্রতিবাদ সমাবেশে কেউ কি উস্কানি দিচ্ছে❓
উত্তরঃ- একদমই নয়। হিন্দু ধর্মানুসারে দেশের রাজা স্বয়ং ঈশ্বরের প্রতিনিধি। রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিন্দুদের কাছে পাপ। তাই কারো উস্কানিতে তারা সরকারের বিরুদ্ধে যাবেনা৷ হিন্দুরা শুধু বিচার চায়। আর সুরক্ষার জন্য অল্প কিছু দাবি আছে আমাদের । এবং আমাদের এই দাবীর মাঠে কেউ যদি,দল এবং মতের স্বার্থ লাভ করতে আসে তাহলে তাকে প্রশাসনের নিকট সমর্পন করতে হবে।
প্রশ্ন-৮ঃ- শোনা যাচ্ছে কোন হামলা হয়নি সব গুজব❓ কোন মিডিয়াতে তো দেখাচ্ছে না❗
উত্তরঃ- দুঃখজনকভাবে মিডিয়া অজানা কারণে হিন্দু অত্যাচারের এই ঘটনা তুলে ধরেছে না। তবুও কিছু মিডিয়ায় এসেছে। আপনারা ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নিন। যদিও কিছু ব্যাক্তি তাঁদের স্বার্থে কিছু ভুল তথ্য প্রচার হতে দেখা গেছে যেমন :- মাশরাফির দগ্ধ বাড়িটি লিটন দাসের বাড়ি বলতে দেখা গেছে, এ ধরণের অপপ্রচারকারীকে আমরা ঘৃণা করি।
নতুন রূপে, নতুন ভাবে সেজে উঠুক মোদের বাংলা।
এই আশা করছে প্রত্যেকটি হিন্দু পরিবারের সদস্য যারা বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে।
0 coment rios: