Saturday, 4 October 2025

সাগরদিঘী বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই হলে বিজেপি জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে।

শুভকল্যাণ বিশ্বাস, দৃষ্টি বাংলা, সাগরদিঘী  - ২০২৬-এ বিধানসভা নির্বাচনে জঙ্গিপুর লোকসভার মধ্যে যে সাতটি বিধানসভা আছে তার মধ্যে দুটি থেকে তিনটি বিধানসভায় বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের জোড় লড়াই হতে পারে। 
এর মধ্যে আবার সাগরদিঘী বিধানসভা অন্যতম । উপনির্বাচনে বায়রণ বিশ্বাসের দলবদল তৃণমূল কংগ্রেসকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। এই বিধানসভার সাধারণ মানুষ  বায়রন বিশ্বাসের পাশাপাশি তৃণমূলের উপর প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। সেটা ২৬ শে নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। 
 বিজেপির এখানে জয়ের সম্ভাবনা নেই। কিন্তু তৃণমূল কে এখানে জয়লাভ করতে হলে অনেক কিছুর পরিবর্তন ঘটাতে হবে। 
 একসময় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই সাগরদিঘী বিধানসভা বর্তমান শাসক দল তৃণমূল এবং কংগ্রেসের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত দেখা দিয়েছে।
 সাগরদিঘী বিধানসভায় মোট বুথ সংখ্যার ২৮৪ টি। এই বিধানসভাটি তৈরি হয়েছিল ১৯৫১ সালে।আর এখানে মোট পোলিং স্টেশন ২৪২ টি। 
 ১৯৮৭ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত  এখানকার বিধায়ক ছিলেন পরেশনাথ দাস। আর ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এখানকার বিধায়ক ছিলেন সুব্রত সাহা। 
 ২০২৩সালে উপ নির্বাচনে  কংগ্রেসের হয়ে বায়রন বিশ্বাস জয়লাভ করেছিলেন। উপনির্বাচনে বায়রন বিশ্বাস ৪৭.৩৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। তিনি ৮৭ হাজার ৬৬৭ ভোট পেয়েছিলেন। আর তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন দেবাশীষ ব্যানার্জি। তিনি মোট ৬৪ হাজার ৮৮১ ভোট পেয়েছিলেন। অর্থাৎ এখানে বায়রন বিশ্বাস এর কাছে দেবাশীষ ব্যানার্জি ২২ হাজার ৯৮৬ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন। 
 কিন্তু কংগ্রেসের টিকিটে জয়লাভ করে  বায়রন বিশ্বাস যখন তৃণমূলের যোগদান করেছেন  তখন থেকেই দেবাশীষ ব্যানার্জীর সঙ্গে বায়রন বিশ্বাসের একটা ঠান্ডা লড়াই চলছে। 
 এই ঠান্ডা লড়াই তৃণমূলকে কিছুটা অস্বস্তিতে রেখেছে। এখন শাসক দল তৃণমূল এখানে কাকে টিকিট দেয় সেটাই দেখার। তৃণমূল এখানে বায়রন বিশ্বাসকে টিকিট দিলেই তৃণমূলে এখানে সরাসরি দুটো গ্রুপ হয়ে যাবে। 
 জনমত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, তৃণমূলের প্রায় ৫২ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা চাইছেন দেবাশীষ ব্যানার্জি পুনরায় এখান থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। আর ৩৭ শতাংশ মানুষ চাইছেন বায়রণ বিশ্বাস এখানে পুনরায় ভোটে লড়াই করুন। 
 আর বিজেপির টিকিটে লড়াই করার জন্য একাধিক নাম উঠে আসছে। 
 উপনির্বাচনে বিজেপির টিকিটে লড়াই করা দিলীপ সাহা, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের লড়াই করা কল্পনা ঘোষ সহ একাধিক নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। 
 কিন্তু আমাদের জনমত সমীক্ষায় চাঁদপুর, অনুপপুর, বাবুর গ্রাম,উত্তর দেবগ্রাম, চাঁদপাড়া, চন্দনবাটী, গাদি,মনিগ্রাম, দোগাছি, বড়লা,শ্রীধরপুর, চারাগাছি, বেলডাঙ্গা,নিমগ্রাম, ধলসা,শীতলপাড়া,,ফুলসাহারি, রামনগর,খারিয়া, শীতল পাড়া, মরগ্রাম, ভোলা, বেলিয়া পাড়া, বড়লা, দাইরা,চালতাবাড়ি, সন্তোষপুর,গোপালপুর,ইত্যাদি গ্রাম থেকে  যে তথ্য উঠে এসেছে সেটি হল বিজেপির প্রায় ৫৮ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা চাইছেন  সমাজসেবী  ও বালিয়ায়াডাঙ্গা হাই স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দাস এবার সাগরদিঘী বিধানসভা থেকে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। 
 ২৩ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা চাইছেন দিলীপ সাহা এখান থেকে লড়াই করুন। 
 ১৯ শতাংশ মানুষ চাইছেন কল্পনা ঘোষ পুনরায় ২০২৬ সালে বিধানসভায় বিজেপির টিকিটে লড়াই করুন। তবে আরো দুই একজনের নাম শোনা যাচ্ছে প্রার্থীর দৌড়ে তারাও আছেন।
 সাগরদিঘী বিধানসভা তে যারা বিজেপির টিকিটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তাদের বেশিরভাগ লোককে পরে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এই অভিযোগ আছে স্থানীয় মানুষের। ভোটে হেরে যাওয়ার পরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে না যিনি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। 
 তাইতো বিজেপি কর্মী সমর্থকরা চাইছেন  এমন  কাউকে প্রার্থী করা হোক যিনি সমাজে আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত এবং পরিচিত ও স্থানীয় কাউকে এখানে টিকিট দেওয়া হোক। কোন শিক্ষক বা ডাক্তার এখান থেকে প্রার্থী হলে বিজেপির কর্মী সমর্থকদের মনের ইচ্ছা পূর্ণ হবে। 
 সেই হিসেবেই গৌতম দাস নামটা প্রথমেই উঠে এসেছে। তিনি একজন নিপাট ভদ্রলোক। তিনি স্কুলের TIC থাকাকালীন  স্কুলে প্রচুর উন্নয়ন করেছেন,সেই কথা এখানকার মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়।  
 তবে এই বিধানসভায় তৃণমূলের জয় সম্ভাবনা প্রায় ৫৭ %। বিজেপি জয়ের সম্ভাবনা ৪৩%  ।

 রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত অনুযায়ী এই বিধানসভায় সুষ্ঠুভাবে SIR হলে এবং ত্রিমুখী লড়াই হলে সর্বোপরি হিন্দু ভোট একত্রিত হয়ে বিজেপিকে দিলে বিজেপি কিন্তু জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: